দামুড়হুদা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামের একটি ছাগলের খামার থেকে পাঁচটি ছাগল চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং চুরির আলামতের ভিডিও ধারণ করায় রানা হোসেন (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত রানা হোসেন কুড়ালগাছি বাজারপাড়ার মৃত আব্দুল মতালেবের ছেলে।
গত শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বিকেল ৫টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথার ক্ষতস্থানে ১০টি সেলাই দেন। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার রানা হোসেন বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দামুড়হুদা থানাধীন পাটাচোরা গ্রামের শেখপাড়ায় রানার ভাগ্নে আব্দুল্লাহ আল মামুনের একটি ছাগলের খামার রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৭টার মধ্যে ওই খামার থেকে পাঁচটি ছাগল চুরি হয়। চুরি যাওয়া ছাগলগুলোর বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে খোঁজখবর নিয়ে রানা হোসেন জানতে পারেন, কার্পাসডাঙ্গা নতুনপাড়ার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফেরদৌস আলী ও মামুন হোসেন ওই চুরির ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। পরে রানা তার ভাগ্নে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সঙ্গে নিয়ে জাহাঙ্গীর ও মামুনের কাছে ছাগল চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে চুরির বিষয়ে কিছু আলামত পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসময় ফেরদৌস আলী রানাকে বলেন, এ বিষয়ে কাউকে কিছু বলার দরকার নেই, তিনি একটি ব্যবস্থা করে দেবেন। পরে রানা ছাগল চুরির ঘটনার কিছু আলামতের ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার সঙ্গে অভিযুক্তদের রাগারাগি হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ভিডিও ধারণ করে ফেরার পথে গত শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে দামুড়হুদা থানাধীন বাঘাডাঙ্গা গ্রামের রাইসা ভাটার পাশে একটি চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন রানা। এ সময় অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো রামদা, লোহার রড ও জিআই পাইপ নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তারা রানাকে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় দামুড়হুদা মডেল থানায় কার্পাসডাঙ্গা নতুনপাড়ার জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফেরদৌস আলী ও মামুন হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ফেরদৌস আলী ও মামুন হোসেন এলাকায় চিহ্নিত চোর এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাদের আরেক ভাই আলমগীর চুরি মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদক দামুড়হুদা