চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বদরগঞ্জ বাকীবিল্লাহ কামিল মাদ্রাসায় আত্মহত্যা, মাদকাসক্তি ও বাল্যবিবাহের নেতিবাচক প্রভাব বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিদের আত্মহত্যা, মাদকাসক্তি ও বাল্যবিবাহের ভয়াবহতা এবং এসব সামাজিক সমস্যার নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মারুফ রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না, এটি পরিবার ও সমাজের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মাদকের কারণে একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। জীবনে প্রতিকূলতা ও হতাশা আসতে পারে। এ সময় একা না থেকে পরিবার, শিক্ষক বা বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি বিপদে পড়া সহপাঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিথি মিত্র বলেন, আত্মহত্যা, মাদকাসক্তি ও বাল্যবিবাহ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কোনো শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলে তাকে অবহেলা না করে তার কথা শুনতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ একটি মেয়ের শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশের পথে বড় বাধা। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি তার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মারুফ রহমান বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে একজন শিক্ষার্থী তার পরিবার, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎÑসবকিছু হারিয়ে ফেলতে পারে। মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থার প্রতি যত্নশীল হতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী হতাশা বা সমস্যায় থাকলে তাকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সহ-সভাপতি দেলহান উদ্দিন, ভাইস প্রিন্সিপাল আল মুজাহিদ, শিক্ষক ও মুহাদ্দিস জুলকার নাঈম, হাফেজ নুর আলম সিদ্দিকী, কামিল হাদিস বিভাগের প্রভাষক আব্দুর রহমান, বাংলা বিভাগের প্রভাষক জান্নাতি বুলবুল, জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক কানিশ ফাতেমা ও প্রভাষক মনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইফতেদায়ী প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার।
ক্যাম্পেইনে শিক্ষার্থীদের মাদক, আত্মহত্যা ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি এসব প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিবেদক সরোজগঞ্জ