সকল অপকর্মের মূল মাদক বলে মন্তব্য করেছেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। গতকাল সোমবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাদক বিরোধী সমাবেশ ও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। উপজেলার গোয়ালপাড়ায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চোরাচালান, মানবপাচার, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদকের কুফল নিয়ে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ। অনুষ্ঠানে ১৬ জন মাদক কারবারি নারী-পুরুষ আত্মসমর্পণ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, সকল অপকর্মের মূল মাদক। যত ধরনের অপকর্ম আছে, যত ধরনের কুকর্ম আছে, এর মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে মাদক। আপনারা কয়েকদিন আগে দেখেছেন, মাদক খেতে না দেওয়ায় রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে খুন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, মাদক যারা বিক্রি করে, মাদক যারা বহন করে এবং মাদক যারা সেবন করে, তাদের সঙ্গে ভদ্রবেশী অনেক মানুষও মাদকের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে এসব মানুষের বিরুদ্ধেও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুধু নিজের জীবনই ধ্বংস করে না, তার পরিবার ও সমাজকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। মাদকের টাকার জোগান দিতে অনেকেই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাদক নির্মূলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
জীবননগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিয়ার রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা জিয়া মঞ্চের সদস্যসচিব শাহজাহান মিয়া, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবু বক্কর এবং প্রভাষক আমিনুর জামান তারেক।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু তালেব, সীমান্ত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওসমান গনী, সাধারণ সম্পাদক বাদলসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যুবসমাজকে খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তারা। সমাবেশে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এসময় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উপস্থিতরা।
জীবননগর অফিস