শুক্রবার, ২১ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

৫১ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা খাওয়ানো হবে আজ

  • আপলোড তারিখঃ ২১-০৮-২০২৬ ইং
৫১ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা খাওয়ানো হবে আজ

আজ শনিবার দেশের ৫১ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা খাওয়ানো হবে। এই টিকা পরবর্তীতে কলেরার সংক্রমণ ঠেকাতে সহায়ক হবে। এই কর্মসূচি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং ঢাকার বাইরে ১৪টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। গর্ভবতী নারী ছাড়া এক বছর ও এর বেশি বয়সী সবাইকেই এই টিকা দেয়া যাবে। কলেরার জীবাণুর বিরুদ্ধে সম্পুর্ণ সুরক্ষা পেতে হলে সবাইকে দুই ডোজ টিকা নিতে হবে। আজ ২২ আগস্ট যারা এক ডোজ টিকা নেবেন তাদেরকে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আরেক ডোজ টিকা দেয়া হবে। মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নাগরিকদের (এইচটিটিপি://ভিএএক্সইপিআই.জিওবি.বিডি) এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য দেয়া কিউআর কোড স্ক্যান করেও প্রয়োজনীয় তথ্য পুরণ করা যাবে। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের ন্যাশনাল হেলথ আইডি কার্ডও তৈরি করতে পারবেন। এটা ভবিষ্যতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা: মো: হালিমুর রশিদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়েছে, টিকা নেয়ার পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা হলো কলেরা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের টেকসই ভিত্তি।


ঢাকা সিটি করপোরেশন ছাড়া কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৪ উপজেলা ও থানার লোকজনকে এই টিকা দেয়া হবে। যেসব উপজেলা ও জেলাসদর উপজেলায় দেয়া হবে সেগুলো হলো- মুন্সীগঞ্জ জেলার মুন্সীগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ জেলার নারায়ণগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলা, কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল উপজেলা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানা এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের তেজগাঁও, খিলক্ষেত ও শের-এ- বাংলা নগর থানা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কলেরার টিকা কর্মসূচি কলেরা প্রতিরোধ, এবং উচ্চ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে কলেরাজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু কমাতে সরকারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। এসব ঝুঁকিপুর্ণ এলাকা সরকারের বহুখাতভিত্তিক হস্তক্ষেপের অগ্রাধিকার এলাকা (পিএএমআই) বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কলেরার জন্য দায়ী জীবাণু হলো ভিব্রিও কলেরি নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। এটি কমা (,) আকৃতির, গ্রাম-নেগেটিভ ও পানির ব্যাকটেরিয়া। এর প্রধান সেরোগ্রুপ ও১ এবং ও১৩৯ মহামারী সৃষ্টি করে। এটি মূলত দূষিত পানি, অনিরাপদ খাবার এবং মলের মাধ্যমে দূষিত পরিবেশের মাধ্যমে ছড়ায় (ফেকো-ওরাল রুট)। বাংলাদেশ (বিশেষ করে গঙ্গা বদ্বীপ অঞ্চল) কলেরার একটি স্থানীয় বা এন্ডেমিক এলাকা। এখানে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে (যেমন বর্ষার আগে ও পরে) কলোরার প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হঠাৎ করে তীব্র পাতলা পায়খানা (চাল ধোয়া পানির মতো), বমি এবং দ্রুত শরীর থেকে পানি ও খনিজ লবণ বের হয়ে তীব্র পানিশূন্যতা দেখা দেয়। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানির অভাব, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বাংলাদেশে কলেরার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।



কমেন্ট বক্স