বুধবার, ১৯ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০ পরিবার পেল ৮২ লাখ টাকার সহায়তা

গাড়ি চালকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান
  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০৮-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০ পরিবার পেল ৮২ লাখ টাকার সহায়তা

চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে ৮২ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে এ সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের উদ্যোগে এ চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।


এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী, বিআরটিএ চুয়াডাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) লিটন বিশ্বাস, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (শহর ও যানবাহন) আমিরুল ইসলাম, জেলা বাস-মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মইনুদ্দিন এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চুয়াডাঙ্গা শাখার সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন।


অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, একজন মানুষ যখন মারা যান, তখন শুধু একজন মানুষই হারিয়ে যান না, পুরো পরিবারই যেন শেষ হয়ে যায়। আবার কেউ গুরুতর আহত হলে অনেক সময় বেঁচে থেকেও মৃতের মতো জীবনযাপন করতে হয়। একটি ছেলেকে দেখলাম, তার পায়ে রড লাগানো হয়েছে। সে চাইলেও স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবে না। সুস্থ হতে তার দীর্ঘ সময় লাগবে। যারা দুর্ঘটনায় হাত-পা হারাচ্ছেন, তারা সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন এবং নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই আমাদের সবাইকে রাস্তায় চলাচলের সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। যানবাহন চালানোর সময় চালকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে, যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। পথচারী, মোটরসাইকেল চালকসহ সড়কে চলাচলকারী প্রত্যেককেই সতর্ক থাকতে হবে। 


তিনি আরও বলেন, আজ একটি ছোট শিশুকে দেখলাম, যে সড়ক দুর্ঘটনায় সারা জীবনের জন্য তার বাবাকে হারিয়েছে। একজন পিতৃহারা সন্তান কিংবা মাতৃহারা সন্তানই বুঝতে পারে বাবা-মায়ের মূল্য কতটা। আজ যে ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়া হলো, হয়তো তা সামান্য। জীবনের সব প্রতিকূলতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে গেলে এক লাখ বা পাঁচ লাখ টাকা খুব বেশি নয়। তবে এই টাকা দিয়ে আপনারা কোনো কিছু করার চেষ্টা করবেন, যাতে আপনার ও আপনার পরিবার কিছুটা হলেও উপকৃত হয়।


জেলা প্রশাসক বলেন, তাই দুর্ঘটনা কমাতে শুধু সরকার নয়, আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। চালক, পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী-সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের একটু সচেতনতাই পারে একটি জীবন, একটি পরিবার এবং একটি ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে।


২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ৮২ লাখ টাকার এ সহায়তা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত মানুষের পাশে রাষ্ট্রীয় সহায়তার বার্তা উঠে এসেছে। তবে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

অধ্যক্ষ আবু নাসির ও সভাপতি ইউসুফ সিন্ডিকেটের পাহাড়সম অনিয়ম