রবিবার, ১৬ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহে ৬ মাসে ১৮৯ জনের আত্মহত্যা

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-০৮-২০২৬ ইং
ঝিনাইদহে ৬ মাসে ১৮৯ জনের আত্মহত্যা

ঝিনাইদহে গত ছয় মাসে ১৮৯ জন নরনারী আত্মহত্যা করেছে। যেকোনো ধর্মে আত্মহননকে মহাপাপ ও ইসলামে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হলেও ঝিনাইদহ জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আত্মঘাতী প্রবণতা। মানসিক যন্ত্রণা, পারিবারিক কলহ ও দুনিয়াবী হতাশার কাছে হার মেনে মূল্যবান জীবন বিসর্জন দেওয়ার এই ঘটনা সমাজে ধর্মীয় অনুশাসনের চরম ঘাটতি ও নৈতিক অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে তুলছে।


গতকাল শনিবার সকালে মানবাধিকার সংগঠন রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (আরডিসি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছয় মাসের চিত্র তুলে ধরা হয়। এদিকে জেলা জুড়ে এই আত্মহতনের চিত্র স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ধর্মীয় চিন্তাবিদদের মনেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


ংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নির্বাহী প্রধান মো. আব্দুর রহমান জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলার ছয়টি উপজেলায় গলায় ফাঁস ও বিষপান করে মোট ১৮৯ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ৯৭ এবং পুরুষ ৯২ জন।


সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১২৫ জন, যার তুলনায় এবার ৬৪টি বেশি। উপজেলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী আত্মহননে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, যেখানে ৫৯ জন (নারী ২৯, পুরুষ ৩০) মারা গেছেন। এছাড়া শৈলকুপায় ৪৪ জন (নারী ২৬, পুরুষ ১৮), হরিণাকুণ্ডুতে ২৫ জন (নারী ১৫, পুরুষ ১০), কোটচাঁদপুরে ২১ জন (নারী ৭, পুরুষ ১৪) এবং কালীগঞ্জ ও মহেশপুরে ২০ জন করে আত্মহত্যা করেছেন।


আত্মহত্যা নিয়ে মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা হাসান মাহমুদ জানান, মানবজীবন স্রষ্টার দেওয়া এক মহা আমানত। পবিত্র কোরআনে পরিষ্কারভাবে এর বিরুদ্ধে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। ইসলামি অনুশাসনে যেকোনো বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করাকে ঈমানের অন্যতম অঙ্গ হিসেবে ধরা হয়, অথচ মানুষ যখন ধর্মীয় শিক্ষা ও আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে যায়, তখনই এই ধরনের চরম ও পাপপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।


ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান এ বিষয়ে মত প্রকাশ করে বলেন, মানুষের অতি আবেগী আচরণ এবং সাময়িক কষ্ট সহ্য করার মতো সহনশীলতার অভাবেই এসব ঘটনা ঘটে চলেছে।


সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সাবেক অধ্যক্ষ ছায়েদুল আলম জানান, শুধু প্রশাসনিক বা এনজিও পর্যায়ের সভা-সেমিনার দিয়ে এই মহামারি রোখা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পরিবার ও সমাজব্যবস্থায় ধর্মীয় মূল্যবোধের পুঙ্খানুপুঙ্খ চর্চা করা। জুমার খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাজে ধৈর্য ও সহনশীলতার বাণী ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জিও-এনজিও সমন্বয়ে কাউন্সেলিং জোরদার করে বিপদে ধৈর্য ধারণের শিক্ষা পৌঁছে দিলেই কেবল এই আত্মঘাতী পথ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

মানুষের প্রত্যাশা আরও বেশি কিছু