প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দন বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি; যথাসময়ে ভোটের সময় জানানো হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে। কমিশন সভায় আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। গতকাল সকালে সংসদ ভবনে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংসদ সচিব ও সংসদ সচিবালয় সচিবও ছিলেন।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সেজন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সংসদ সচিবালয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।
সাতক্ষীরা-৪ আসন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, সাতক্ষীরা-৪ আসন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয় রেফার করলে কমিশন ব্যবস্থা নেবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের পর নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। গুরুতর অসুস্থততার কথা জানিয়ে ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন। আর সেই পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে গতকাল প্রাথমিক আলোচনা করল নির্বাচন কমিশন। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, নির্বাচন কমিশন এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন সংসদ সদস্যরা। সিইসি থাকেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে তাতে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ ও স্থান থাকবে; সিইসির কার্যালয়ে এসব কাজ হবে। তবে ভোটের স্থান হবে সংসদ কক্ষ।
সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদের কক্ষে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সংসদের অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন হলে স্পিকার সাত দিন আগে বৈঠক আহ্বান করতে পারেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন