ঝিনাইদহ সদর উপজেলার টিকারী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নাম থাকায় ওই কলেজের অধ্যক্ষ এম বাবুল আক্তারকে বাড়িতে গিয়ে কিল-ঘুষি মেরে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সাবুর আলী মল্লিক শৈলকুপার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ভুক্তভোগী অধ্যক্ষেরই প্রাক্তন ছাত্র। তার বাড়ি সদর উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে।
অভিযোগ উঠেছে, সাবুর আলী মল্লিক বিএনপির কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও দলের নাম ভাঙিয়ে এই অপকর্ম করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ শহরের হামদহ মোল্লাপাড়ায় অধ্যক্ষের নিজস্ব বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ এম বাবুল আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালেব কলেজের সভাপতির জন্য তিনজনের একটি তালিকা বোর্ডে পাঠাতে বলেন। নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকায় ১ নম্বরে শিহাব শিকাদার ও ৩ নম্বরে হারুন অর রশিদের নাম এবং ২ নম্বরে সাবুর আলী মল্লিকের নাম রাখা হয়।
নিজের নাম এক নম্বরে না থাকায় ক্ষিপ্ত হন সাবুর আলী। তিনি প্রথমে মোবাইল ফোনে অধ্যক্ষকে “শুয়োরের বাচ্চা”সহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এতেও ক্ষোভ না মিটলে তিনি সরাসরি অধ্যক্ষের বাড়িতে গিয়ে তাকে কিল-ঘুষি মেরে লাঞ্ছিত করেন।
অধ্যক্ষ বাবুল আক্তার অত্যন্ত বিস্ময় ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “সাবুর আলী মল্লিক আমার নিজের ছাত্র। একজন শিক্ষক হয়ে সে নিজের শিক্ষকের ওপর এমন জঘন্য ও বর্বর হামলা চালাতে পারে, তা আমি ভাবতেও পারছি না।”
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত সাবুর আলী মল্লিক মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, “এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।” ঘটনার দিন তিনি আমাকেই পায়ের স্যান্ডেল দিয়ে মারতে উদ্যত হন।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু জানান, “সাবুর আলী মল্লিক বিএনপির কোনো পদ-পদবিতে নেই। আমি সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, সে আমাদের দলের কোনো সদস্যই না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে ব্যক্তির দায় দল নেবে না।”
ঝিনাইদহ অফিস