শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গার সার্বিক উন্নয়ন ও আইনজীবীদের কল্যাণে জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফের একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা ঘোষণা

চলতি বছরেই চুয়াডাঙ্গার বহুল প্রতীক্ষিত বাইপাস সড়কের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে
  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৬-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গার সার্বিক উন্নয়ন ও আইনজীবীদের কল্যাণে জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফের একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা ঘোষণা

চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি চুয়াডাঙ্গার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আইনি পরিবেশের আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনা ও দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভায় তিনি জেলার বহুল প্রতীক্ষিত বাইপাস সড়ক নির্মাণ, সিজিএম কোর্টের দ্রুত বাস্তবায়ন, গাংনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তরসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের বিস্তারিত রোডম্যাপ তুলে ধরেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের তৃণমূলমুখী দূরদর্শী স্বাস্থ্য ভাবনার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।


সভায় নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসন নিয়ে দলের কৌশল প্রসঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার উন্নয়ন করার বিষয়ে আমার প্রচণ্ড আগ্রহ রয়েছে। আমার দল আমাকে কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে চুয়াডাঙ্গার এই আসন দুটি রিকভারি বা পুনরুদ্ধারের জন্য একটি তুলনামূলক ছোট জায়গায় ডিমোশন দিয়ে দায়িত্ব দিয়েছে। হয়ত এটি আমার কোনো ব্যর্থতা, কিংবা বিগত দিনে জনগণ আমাকে সেভাবে পছন্দ করেনি। তবে ক্ষমতা না পেয়েও আমি সবসময় নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার উন্নয়নে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
বিগত দিনেও এলাকার উন্নয়নে তাঁর আন্তরিক চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর ইউনিয়নের আশপাশে বর্তমানে কোনো কাঁচা রাস্তা নেই এবং জনস্বার্থে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে তিনি বিগত ১০ মাস ধরে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তিনটি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর বেতনের দায়িত্ব বহন করে আসছেন। এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ৮টি জেলায় আইসিইউ সুবিধা চালু করছে, অথচ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটিকে তাদের নিজেদের উন্নয়ন বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে।


উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক ঘোষণা করেন, চলতি বছরের মধ্যেই চুয়াডাঙ্গার বহুল প্রতীক্ষিত বাইপাস সড়কের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও বাস্তবায়ন শুরু হবে। একই সাথে সিজিএম কোর্টের ভবন নির্মাণ ও টেন্ডার প্রক্রিয়াও এ বছরই শুরু হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলাকে ‘বি-গ্রেড’-এ উন্নীত করার প্রশাসনিক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৩ সালে মিয়া মো. মনসুর আলী ব্যক্তিগত উদ্যোগে দর্শনাকে আলাদা থানা করার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে যারা এখানকার এমপি ছিলেন, তারা সদিচ্ছা দেখালেই একে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ও থানায় রূপান্তর করতে পারতেন। জেলাকে বি-গ্রেডে উন্নীত করতে অন্তত ৬টি উপজেলা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে দর্শনা থানা ঘোষিত হয়েছে। এর পাশাপাশি গাংনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ থানায় রূপান্তরের জন্য স্বরাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে পাওয়া ফরম্যাট অনুযায়ী আগামী ২-১ মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।’


আইনজীবী সমিতির কল্যাণে নিজস্ব তহবিল থেকে তাৎক্ষণিক কিছু উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি জানান, আগামীকাল থেকেই কোর্টের টিনশেডটি নির্মাণের কাজ শুরু হবে, যা আগামী ৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও সুপেয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে পাবলিক টয়লেট, ক্যান্টিন স্থাপন এবং আদালত চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সেবার ব্যবস্থা করা হবে। তবে এগুলোর মাসিক খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আইনজীবী সমিতিকে নিতে হবে।


অন্যদিকে জেলা পরিষদের বাজেট বণ্টন ও স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এডিপি থেকে আসা বাজেট সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে খরচ করতে হয়, এটি আমার ব্যক্তিগত হাত বা ইচ্ছাধীন নয়। মন্ত্রণালয় সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দিতে চায়। তাছাড়া জেলা পরিষদের একটি টাকাও নগদ তোলার সুযোগ নেই, সব টাকা ১৫ শতাংশ সরকারি কর কর্তনপূর্বক চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করতে হয়।’


অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের আশ্বস্ত করে জেলা পরিষদ প্রশাসক আরও বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ নিশ্চিত করতে এবং আইনজীবীদের দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে তিনি শিগগিরই আইনমন্ত্রীকে চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে এসে একটি বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করবেন। আইনমন্ত্রী বর্তমানে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন, সেখান থেকে ফিরলেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে এবং এর আগে যশোরে দেওয়া বরাদ্দের ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গার জন্যও বড় বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্য খাতের অভূতপূর্ব উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী শুধু সদর হাসপাতাল নয়, প্রতিটি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকে একটি করে ‘মিনি অপারেশন থিয়েটার’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষ নিজ ইউনিয়নেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সুবিধা পায় এবং সদর হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমে।


চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং জজ কোর্টের বিজ্ঞ পিপি অ্যাডভোকেট মারুফ সারোয়ার বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে সঞ্চালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার অহিদুল আলম (মানি খন্দকার)। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আকসিজুল ইসলাম রতন।


সভায় নবনিযুক্ত প্রশাসককে শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং চুয়াডাঙ্গার সার্বিক উন্নয়ন ও আইনজীবীদের নানা সমস্যা তুলে ধরে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট আবদুল খালেক, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ. এস. এম. আবদুর রউফ, প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোসলেম উদ্দীন, অ্যাডভোকেট এস. এম. রফিউর রহমান, আলহাজ্ব সেলিম উদ্দিন খাঁন, অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব শহিদুল হক-২, অ্যাডভোকেট হেদায়েত হোসেন আসলাম, অ্যাডভোকেট সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম, অ্যাডভোকেট তালিম হোসেন, অ্যাডভোকেট মোহা. ফজলে রাব্বী সাগর এবং অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান জালালসহ স্থানীয় আইনজীবী নেতৃবৃন্দ। বক্তারা নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসকের উন্নয়নমুখী ও জনকল্যাণমূলক ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ঘোষিত প্রকল্পগুলোর দ্রুত ও সফল বাস্তবায়ন কামনা করেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন