আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক জনসেবা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর ধরে ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে থেকে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদের সভায় ওই বিল পরিশোধের জন্য অর্থ অনুমোদন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদিত অর্থ ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মেহেরাজ হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বিল জমা দেননি।
এ বিষয়ে বেলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মেহেরাজ হোসেন বলেন, ‘আজকের মধ্যেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে সংযোগ পুনরায় চালুর চেষ্টা করছি।’ তবে দীর্ঘদিন বিল পরিশোধ না হওয়ার কারণ এবং অনুমোদিত অর্থ সময়মতো জমা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে বেলগাছী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছে যে অর্থ ছিল, তা পুরো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য যথেষ্ট ছিল না। সাধারণত প্রতি বছর একবারেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান আয়ের উৎস হলো স্থানীয় কর (ট্যাক্স) আদায়। এ বছর সেই কর আদায় না হওয়ায় পর্যাপ্ত অর্থের সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে সময়মতো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।’
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার বলেন, ‘অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, বকেয়া বিলের কারণে গত ১৮ জুন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবার কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। প্রতিদিন সেবা নিতে এসে অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনগণের করের টাকায় অনুমোদিত বিদ্যুৎ বিল সময়মতো পরিশোধ করা হলো না কেন, আর সেই অর্থের ব্যবহার কোথায় হয়েছে?
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, শুধু হোল্ডিং ট্যাক্সই নয়, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্সসহ আরও যে অর্থগুলো ইউনিয়ন পরিষদ গ্রহণ করে, সেটা দিলেও তো বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকার কথা না। এ বিষয়ে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং জনসেবা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা