চুয়াডাঙ্গায় যুব সবুজ উদ্যোক্তাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং সেন্টারে ইয়ুথ গ্রীন এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের অর্থায়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রকল্পের পরিচিতি, কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক নাজমা সুলতানা লিলি। এসময় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর নির্মিত ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। পরে সবুজ উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার। এসময় তিনি বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নকে সামনে রেখে আমাদের তরুণরা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিশেষ করে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার যে দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় তারা দিয়েছে, তার জন্য আমি তাদের সাধুবাদ জানাই।’
তিনি আরও বলেন, একসময় ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদনের পরিমাণকেই গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমান বিশ্বে উৎপাদনের পাশাপাশি সেই কার্যক্রম পরিবেশগতভাবে কতটা নিরাপদ এবং টেকসই, সেটিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া বর্তমান সময়ের একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। ব্যবসার সঙ্গে সবুজায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি যুক্ত করা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও দূরদর্শী উদ্যোগ।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম লিটনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন। তিনি বলেন, তরুণেরা যে সবুজ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে উপযোগী এবং পৃথিবীকে আরও বাসযোগ্য করে তোলার একটি প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি হযরত ওমর (রা.)-এর সময়ের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একসময় বেকারত্বের হার বেড়ে গেলে হযরত ওমর (রা.) কিছু যুবককে একটি প্রাসাদ নির্মাণের দায়িত্ব দিয়ে চলে যান। পরে ফিরে এসে তিনি দেখেন সেখানে একটি ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে। তখন তিনি যুবকদের জিজ্ঞাসা করেন, প্রাসাদ কোথায়? জবাবে তারা বলেন, প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু এরপর কী করতে হবে সে নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাই সেটা আবার ভাঙা হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, কর্মের দুটি দিক রয়েছে- একটি সৃষ্টি, অন্যটি ধ্বংস। সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকলে সৃষ্টিও ধ্বংসে পরিণত হতে পারে।
নাজমুল হক স্বপন বলেন, আমাদের অঞ্চলের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ তরুণ। এই বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে চুয়াডাঙ্গায় এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো ভারী শিল্প গড়ে ওঠেনি। কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প, কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ কিংবা নিম তেল উৎপাদনের মতো সম্ভাবনাময় শিল্পখাতগুলোও যথাযথভাবে বিকশিত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প গড়ে তোলার যে উদ্যোগ তরুণরা গ্রহণ করছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। একই সঙ্গে ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমাজ ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে যে সহায়তা দিচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
প্রেসক্লাবের সভাপতি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করতে না পারি, যদি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে না পারি, তাহলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সবুজ উদ্যোগ গ্রহণ এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরির এই প্রচেষ্টা বর্তমান সময়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাজুল ইসলাম, জনতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ারম্যান ওলি উল্লাহ, সদর উপজেলা লোকমোর্চার সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক আকবর, জাহানারা যুব মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান জাহানারা খাতুন টগরসহ উদ্যোক্তা তরুণ-তরুণীরা।
অনুষ্ঠানের শেষে চুয়াডাঙ্গার ১৫টি গ্রিন বিজনেস উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ৩০ জন যুব উদ্যোক্তার হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয় এবং উদ্যোক্তাদের স্টলগুলো পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার।
নিজস্ব প্রতিবেদক