দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়েল ইসলাম লিওনের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে বৈবাহিক তথ্য গোপন রাখা, অর্থ গ্রহণ, মানসিক নির্যাতন ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী নারী সামাজিক মর্যাদা, চাকরি ও পারিবারিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক দীর্ঘ অডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, প্রায় ছয় মাস ধরে লিওনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের শুরুতে রিয়েল ইসলাম লিওন নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, অভিযুক্ত প্রায় চার বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রেখেছেন।
অভিযোগকারী আরও বলেন, সম্পর্ক চলাকালে বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে একাধিকবার অর্থ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আর্থিক সুবিধাও গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্যমতে, বিশ্বাস ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে তাকে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমি ডিএনএ টেস্ট ও ড্রপ টেস্ট করাতেও পিছুপা হব না।’
অডিও বার্তায় আরও অভিযোগ করা হয়, সত্য জানার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে অভিযুক্ত ধীরে ধীরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্নের চেষ্টা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক চাপে রাখার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। ভুক্তভোগীর ভাষ্য, ‘আমাকে এবং আমার পরিবারকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে। প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন নীরব থেকেছি, কিন্তু এখন আর নীরব থাকার সুযোগ নেই।’
ওই নারী দাবি করেন, অভিযুক্তের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের স্ক্রিনশট, কল হিস্ট্রি, ভয়েস রেকর্ড ও ভিডিও কলের তথ্য তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। প্রয়োজনে এসব তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের কাছে উপস্থাপন করবেন বলেও জানান তিনি। অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত। এ সংক্রান্ত কিছু ছবিও তিনি সাংবাদিকদের দিয়েছেন বলে জানান।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। এ বিষয়ে রিয়েল ইসলাম লিওনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করে ‘রং নাম্বার’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
দামুড়হুদা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাইনূর আহমেদ দৌলত খান সুলতান বলেন, কোনো ছাত্রনেতা বা ছাত্রদলের কোনো নেতা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে না। অভিযোগের সত্যতা ও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
দর্শনা অফিস