শনিবার, ২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় ইউপি কার্যালয়ে ফিরতেই আ.লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানদের ওপর

চড়াও ক্ষুব্ধ জনতা, ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত
  • আপলোড তারিখঃ ০১-০৫-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় ইউপি কার্যালয়ে ফিরতেই আ.লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানদের ওপর

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ ৮ মাস পর ইউনিয়ন পরিষদে বসে দাপ্তরিক কাজ শুরু করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যানরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে বসা নিয়ে গ্রামবাসীর সাথে তিনজন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এদিকে, রাতে একটি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিকে সাংগঠনিক স্থবিরতা ও নিক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিলুপ্ত করা হয়েছে।


গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আলমডাঙ্গার খাদিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাসকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। তবে উচ্চ আদালতে রিট করে পুনরায় স্বপদে বসার বৈধতা পাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি পরিষদে গিয়ে কাজ শুরু করেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত এই চেয়ারম্যানের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার ক্ষুব্ধ জনতা ও স্থানীয় বিএনপি সমর্থকরা পরিষদ চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পরিষদ লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর চালায়। এসময় প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন চেয়ারম্যান লোটাস। পরে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে শুরু হয় সংঘর্ষ। সংঘর্ষের সময় স্থানীয়দের অন্তত চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।


একই দিনে উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল এবং কালিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকেও উপজেলা পরিষদ থেকে ফেরার পথে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলের সামনে পড়লে ধাওয়া দেয় উত্তেজিত জনতা। তাছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশে অন্য চেয়ারম্যানরা দাপ্তরিক কাজে যোগ দিতে এলে স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পড়েন। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্ন চেয়ারম্যানদের তারা আর পরিষদে দেখতে চান না।




খাদিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস অভিযোগ করে বলেন, ‘সকালে নিয়ম অনুযায়ী অফিস করতে এলে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা করে। তারা কক্ষে ভাঙচুর চালায় এবং আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। পুরো ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে সংরক্ষিত আছে।’


এদিকে, গতকাল রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক স্থবিরতা ও নিক্রিয়তার অভিযোগে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে খাদিমপুর ইউনিয়ন ও এর নয়টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।


চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।  বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উচ্চ আদালতের আদেশে আলমডাঙ্গার আরও তিন চেয়ারম্যান- চিৎলা ইউপি’র হাসানুজ্জামান সরোয়ার, খাসকররার তাসফির আহমেদ লাল এবং ডাউকি ইউপি’র তরিকুল ইসলাম স্বপদে ফেরার অনুমতি পেয়েছেন। তবে বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু