বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দর্শনা কেরুর ৮৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা

ডিস্টিলারিই মূল চালিকা শক্তি, লোকসানে চিনিকল
  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০৪-২০২৬ ইং
দর্শনা কেরুর ৮৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা

দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় নয় দশকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে। আলোচ্য অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি মোট ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা করে ৮৮ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কেরুর ডিস্টিলারি ইউনিটই মূলত এই মুনাফা অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি। বিদেশি মদ আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধ এবং দেশীয় ব্র্যান্ডের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই ইউনিটে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


তবে চিনিকল খাতে লোকসান সত্ত্বেও কেরুর সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ শতাংশ বেশি। শুধু ডিস্টিলারি ইউনিট থেকেই মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিস্টিলারিটির মোট আয় ৩ শতাংশ কমে ৪৪৪ কোটি টাকায় নেমে এলেও গত তিন বছর ধরে এই ইউনিট ধারাবাহিকভাবে ৪০০ কোটির বেশি রাজস্ব এবং ১০০ কোটির বেশি নিট মুনাফা অর্জন করে আসছে। বর্তমানে এই ইউনিটে প্রায় ১২ ধরনের মদ উৎপাদন করা হয়। অন্যদিকে জৈব সার কারখানা থেকে ৬৮ লাখ, বাণিজ্যিক খামার থেকে ৭৬ লাখ এবং ভিনেগার উৎপাদন থেকে ৫ লাখ টাকা লাভ হয়েছে।


প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ অর্থবছর থেকে শুরু করে টানা সাত বছর ধরে কেরু প্রতি বছর আগের বছরের তুলনায় বেশি মুনাফা অর্জন করেছে। ডিস্টিলারি ইউনিটের নিট মুনাফার হার দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশ, যা কোম্পানির আর্থিক দক্ষতার প্রতিফলন। তবে চিনিকল এখনও অলাভজনক রয়ে গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ইউনিটে ৬২ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ফলে মোট পুঞ্জীভূত লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩১ কোটি টাকার বেশি।


কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি মূলত চিনিকল পরিচালনা করলেও এর পাশাপাশি দর্শনায় অবস্থিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিস্টিলারিতে আখের উপজাত ঝোলাগুড় থেকে অ্যালকোহল উৎপাদন করে। এছাড়া জৈব সার, বাণিজ্যিক খামার ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটও রয়েছে।


কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান জানান, ২০২১ সালে বিদেশি মদ আমদানিতে বিধিনিষেধ কঠোর হওয়ার পর দেশীয় মদের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে ডিস্টিলারি ইউনিটে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, যা মুনাফা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও বলেন, ‘ডিস্টিলারি ইউনিট ছাড়াও খামার, জৈবসার ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটগুলোও এ বছর সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে।’ তবে বছরের একটি সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিক্রি কমে গেলেও পরবর্তীতে তা পুনরুদ্ধার হয় বলে জানান তিনি।


চিনি ইউনিটকে লাভজনক করতে কেরু ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিএমআরই (ব্যালেন্সিং, মডার্নাইজেশন, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড এক্সপ্যানশন) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ৯২ কোটি টাকা সরকারি তহবিল এবং ১০ কোটি টাকা কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়ন। ২০১২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতায় এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে এর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে চিনি ইউনিট লাভজনক হবে কি না, তা তখনই বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



কমেন্ট বক্স