আলমডাঙ্গার খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক ছাত্রদল নেতাকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন কলেজ শাখার ছাত্রদলের উদ্যোগে আলমডাঙ্গা শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন নেতা-কর্মীরা।
সমাবেশে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা। তিনি অভিযোগ করেন, সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে তাদের এক কর্মীকে খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়াদ্দার লোটাসের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানতে নেতা-কর্মীরা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় চেয়ারম্যান আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেন এবং তার সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় নেতা-কর্মীরা সেখান থেকে সরে আসেন। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের লোকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা ও কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফ আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে এবং পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে, চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়াদ্দার লোটাসকে ঘিরে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় আলাদা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের পর তিনি দায়িত্ব নিতে পরিষদে গেলে স্থানীয় জনতা, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চেয়ারম্যানের সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে মাঠে নামে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে ছাত্রদল শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় শহরের বাবু হোটেল এলাকার সামনে দুই ইউপি চেয়ারম্যানকে ধাওয়া ও লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে একজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়, অন্যজন ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির নেতারা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক