মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় চালু হয়েছে ইউনিক কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’

মাঠপর্যায়ে শুরু হয়নি কার্যকর, চলছে আগের নিয়মেই
  • আপলোড তারিখঃ ২৮-০৪-২০২৬ ইং
চুয়াডাঙ্গায় চালু হয়েছে ইউনিক কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। কোথাও কোথাও ভোগান্তির অভিযোগও উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ করতে যানবাহনগুলোর  জন্য চালু করা হয়েছে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও বিআরটিএ-এর যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থার লক্ষ্য- জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা আনা, অপচয় ও অনিয়ম কমানো এবং ভোক্তাদের জন্য প্রক্রিয়াকে সহজ করা। ‘ফুয়েল পাস’ মূলত একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র, যাতে থাকা ইউনিক কিউআর কোড স্ক্যান করে ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। ফলে কোন যানবাহনে কত জ্বালানি যাচ্ছে, তা সহজেই নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব।


জানা যায়, গত ১৮ এপ্রিল ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল মহানগরসহ চাঁদপুর ও ময়মনসিংহে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলগুলোকে ‘ফুয়েল পাস বিডি’ সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গাসহ আরও ১৮টি জেলায় নিবন্ধন কার্যক্রম উন্মুক্ত করা হয়েছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। তবে নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হলেও চুয়াডাঙ্গার কোনো ফিলিং স্টেশনেই এখনো ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবহারের বাস্তব চিত্র দেখা যায়নি। সরেজমিনে বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, এখনো আগের মতোই ম্যানুয়াল ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।


এ বিষয়ে জোয়ার্দ্দার পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা ফুয়েল পাস সম্পর্কে অবগত আছি। অনেকেই অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। তবে প্রশাসন বা মালিক সমিতি থেকে কোনো নির্দেশনা না পাওয়ায় এখনো এটি চালু করতে পারিনি।’ একই স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার সোহেল আহমেদ বলেন, ‘ফুয়েল পাস সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো নির্দেশনা না আসায় আমরা পূর্বের ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’


এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি.এম. তারিক-উজ-জামান জানান, জেলার ফিলিং স্টেশনগুলো এখনো ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থার আওতায় আসেনি। তবে টেকনিক্যাল টিমের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং খুব দ্রুতই এই কার্যক্রম চালু করা হবে।


এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল সোমবার জানানো হয়, ‘জ্বালানি বিতরণের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি ফুয়েল পাসের রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘ক’, ‘খ’ এবং ‘গ’ সিরিজের গাড়িগুলো ফুয়েল পাসে রেজিস্ট্রেশনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য সিরিজের ব্যক্তিগত গাড়িও রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। অতিদ্রুত জেলার সকল ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িতেও ফুয়েল পাসের মাধ্যমে জ্বালানি প্রদান করা হবে।


জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় যেসব ব্যক্তির নিকট ম্যানুয়েল ফুয়েল কার্ড বিদ্যমান রয়েছে, তাদেরকেও ফুয়েল পাস প্রাপ্তির লক্ষ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। কারণ দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলার সকল ফিলিং স্টেশনকে ফুয়েল পাস ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। পরবর্তীতে ডিজিটাল ফুয়েল পাস ব্যতীত কোনো যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না।



কমেন্ট বক্স
notebook

আন্দুলবাড়ীয়ায় বাংলা কিউআর কোডে লেনদেনের প্রচারে রোড-শো