রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা

  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৪-২০২৬ ইং
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা

দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ জন্য নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সারা দেশে রেড এলার্ট জারির খবর সোশাল মিডিয়ায় প্রচার হলেও বিষয়টি স্বীকার করেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে পুলিশ সদর দফতর। ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট: শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। পতনের পরপরই দেশের পাচ শতাধিক থানায় অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। এমন প্ল্যানের ছক আসে একটি ইসলামী দলের পক্ষ থেকে। প্ল্যান মোতাবেক থানায় হামলা করা হয়। হামলার প্রধান টার্গেট ছিল থানাগুলোতে ইসলামী দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলার নথিপত্র গায়েব করে দেয়া। সেটি সাফল্যের সঙ্গে করে হামলাকারীরা। এ জন্য হামলার পর থানাগুলোতে আগুন দেয়া হয়। যাতে সবতথ্যই শেষ হয়ে যায়। এরপর থানা থেকে অস্ত্র গোলা-বারুদ লুট করা হয়। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এরপর দ্বিতীয় টার্গেট: ছিল কারাগার। সেখানেও তারা সফল হয়। হামলাকারীরা জেল ভেঙে গ্রেফতার হওয়া ইসলামী দলটির এবং তাদের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। ইসলামী দলটির এমন প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যরা স্বাভাবিক কারণেই আবারো এক কাতারে চলে আসে। আশ্রয় নেয় একটি বড় ইসলামী দলের ছায়াতলে। তাদের নতুন করে সংগঠিত করছে ইসলামী দলটি। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্ট ইলেকশনে বিএনপি ক্ষমতা লাভ করে। তবে ইসলামী দলটি ক্ষমতায় যেতে নানা ধরনের কৌশল করেছিল। কিন্তু দেশের শান্তিপ্রিয় জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ইসলামী দলটির বর্তমানে দেশে একটি রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হয়েছে। দলটির তরফ থেকে সারা দেশে নিজস্ব ও দলীয় নেটওয়ার্ক তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। শুধু দেশীয় নয়, এরই মধ্যে দলটি ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এমনকি বিভিন্ন বির্তকিত দেশীয় এবং ইন্টারন্যাশনাল সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছে। সেই নেটওয়ার্কের জোরেই ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারকে অকার্যকর সরকার হিসেবে দেশে-বিদেশে প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইসলামী দলটি। তারা সারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার উপযুক্ত নয় বলে প্রমাণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার প্ল্যান হচ্ছে। যার নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ ওই ইসলামিক দলটি। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, দেশে ইসলামী শাসন কায়েম করতে মরিয়া সাম্প্রদায়িক দলগুলো। যাতে করে ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশ শাসন করা যায়। ওই ইসলামী দলটিকে মদদ দিচ্ছে একাধিক বিদেশি শক্তি। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৩ এপৃল পুলিশ সদর দফতর থেকে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদের (যিনি সামী, আবু বক্কর ও আবু মোহাম্মদ নামেও পরিচিত) সঙ্গে একটি বাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কর্মকাণ্ড দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ঝুকিপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পার্লামেন্ট ভবন, বাংলাদেশ পুলিশ ও সেনা বাহিনীর স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ বা ধারালো অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে হামলার প্ল্যান করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার প্ল্যানও রয়েছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। জঙ্গি হামলার বিষয়ে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন জানিয়েছেন, 'আমাদের কাছেও এমন তথ্য আছে। সেই তথ্য মোতাবেক কাজ চলছে।' সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পার্লামেন্টে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরুর বিষয়ে বলে আসছে জামায়াতে ইসলামী। সেই আন্দোলনে লেবাস পরিবর্তন করে যোগ: দিতে পারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। জঙ্গিরা আন্দোলন-সংগ্রামের নামে লাশ ফেলে বা টার্গেটকৃত রাজনীতিকদের হত্যা করে দেশে চরম নৈরাজের সৃষ্টি করতে পারে। যার সুবিধা পাবে সরকার বিরোধী গোষ্ঠী। সরকার কৌশলে এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে না পারলে দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটার সম্ভাবনা বেশি। সুযোগটিকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে জেল পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা। বিশেষ করে জেল থেকে পলাতকদের নিয়ে জনমনে শঙ্কা রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা দেশে গুপ্ত হত্যা ও টার্গেট কিলিং চালাতে পারে। তাতে মদদ দিতে পারে দেশি-বিদেশি শক্তি। এ জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে বলা হয়েছে। কারণ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতকরা যত বড় অপরাধই করুক না কেন, তাদের আর নতুন করে আইনে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সুযোগ নেই। জেল পলাতক আমৃত্যু ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা এক হাজারের বেশি। শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, 'অপারেশন ডেভিল হান্ট'-এর সময় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের হার একেবারেই কম ছিল। ২০০৮ সালে পাকিস্তান সরকার জঙ্গি সংগঠন হিসেবে হিযবুত তাহরীরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালের ২৪ এপৃল দলটিকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। প্রয়াত সাবেক প্রধান মন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের আমলে ২০০৫ সালে জেএমবি (জামা'তুল মুজাহিদীন বাংলাশে), জেএমজেবি (জাগ্রত মুসলিম জনতা অফ বাংলাদেশ), হুজি (হরকাতুল জিহাদ), হুজিবি (হরকাতুল জিহাদ অফ বাংলাদেশ), শাহাদৎ-ই-আল হিকমাসহ পাচটি জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে। ২০১৫ সালে এবিটি (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম), ২০১৭ সালের মার্চে আনসার আল ইসলাম, ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বরে 'আল্লাহর দল' নিষিদ্ধ করে। সবশেষ নিষিদ্ধ করা হয় 'জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়া' নামের এক জঙ্গি সংগঠনকে। বিএনপি পাচটি এবং আওয়ামী লীগ সরকার চারটি, মোট নয়টি সংগঠনকে 'জঙ্গি দল' হিসেবে নিষিদ্ধ করে। ধারণা করা হচ্ছে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো। পুলিশ মহা-পরিদর্শক আলী হোসেন ফকির বলেন, 'শুধু জঙ্গি-সন্ত্রাসী নয়, জেল পলাতক অপরাধীদের গ্রেফতারে সারা দেশে বিশেষ অভিযান চলছে। দেশের সবখানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ বিশেষ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এমনকি বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।'



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড