কৃষি খাতে সেচ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং শহর-গ্রামের বৈষম্য কমাতে ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামের কৃষকরা যেন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পান এবং ফসল উৎপাদনে কোনো ক্ষতি না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। জুলাই অভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন বাংলাদেশের চেতনা সমুন্নত রাখতে ঢাকা শহরে প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট, যার ফলে দেশজুড়ে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটকে বিগত সরকারের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, বর্তমানে একটি আমদানিকৃত ও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এগুলো উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতি সহনীয় হয়ে আসবে।
প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকায় জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে। জনগণের সাময়িক কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আগামী সাত দিনের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন