ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির একাধিক বিশেষজ্ঞ টিম ইতিমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে। ভেতরে জোর প্রস্তুতি চললেও এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে না। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হতে পারে। চূড়ান্ত পর্যায়ের সকল প্রস্তুতি আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে শেষ হলে, এরপরই ঘোষণা আসতে পারে ছায়া মন্ত্রিসভার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সিনিয়র নেতা ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক এই কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যা সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞ প্রতিটি টিমে ৩ থেকে ৫ জন এক্সপার্ট সদস্য রয়েছে। যারা মন্ত্রিসভার কাজকর্ম প্রস্তুত করছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমপ্রতি কিছু কথিত ছায়া মন্ত্রিসভার তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তবে এই তালিকাকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে জানিয়েছে দলটি। এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে প্রথম ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি ভেরিফায়েড ফেসবুকে লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রী পরিষদ গঠন করবো ইনশাআল্লাহ্।’ পরদিন তিনি আরেক পোস্টে বলেন, রাজনীতিতে নতুনত্ব আনা প্রয়োজন। সরকারি দল মন্ত্রিসভা গঠন করবে, বিরোধীদল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করবে- সংসদের ভেতরে ও বাইরে তুমুল বিতর্ক হবে। এতে সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ১৫ই ফেব্রুয়ারি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া মন্ত্রিসভা।’
সুত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এগোলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সংসদে বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান নেয়। তাদের ৭৭ জন সংসদ সদস্য রয়েছে, যার মধ্যে জামায়াতের ৬৮ জন। এই প্রেক্ষাপটে সরকারকে পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প নীতিমালা উপস্থাপনের জন্যই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে ছায়া মন্ত্রিসভা হলো বিরোধী দলের একটি বিকল্প কাঠামো, যা ক্ষমতাসীন সরকারের সমান্তরালে কাজ করে। এর প্রধান কাজ সরকারের কার্যক্রম বিশ্লেষণ, ত্রুটি চিহ্নিত করা এবং বিকল্প প্রস্তাব দেয়া। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে এই ধরনের ব্যবস্থা প্রচলিত।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মানবজমিনকে বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে এটা কাজে লাগবে। ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে। যাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের সঙ্গে ৩ থেকে ৫ সদস্যের এক্সপার্ট টিম দেয়া হয়েছে। যারা ছায়া মন্ত্রিসভার লিড করতেছেন তারা জামায়াতের সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্য। আগামী ২ থেকে ৩ মাস লাগবে এটা করতে। যারা কাজ করছেন তারা বিভিন্ন পেপারস রেডি করছেন। বিশেষজ্ঞ টিমের কাজ শেষ হলে একটা পর্যায়ে আমরা ঘোষণা দেবো। আপাতত কোনো ঘোষণায় যাচ্ছি না। অনলাইনে ছায়া মন্ত্রিসভার ফটোকার্ড ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনলাইনে যেসব কার্ড শেয়ার হচ্ছে। এর সবই ভুয়া।
সমীকরণ প্রতিবেদন