শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আলমডাঙ্গায় ‘নিম্নমানের ভুট্টার বীজে’ বিপর্যয়

অর্ধশত কৃষকের কোটি টাকার ক্ষতি
  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০৪-২০২৬ ইং
আলমডাঙ্গায় ‘নিম্নমানের ভুট্টার বীজে’ বিপর্যয়

আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর ও শ্রীরামপুর গ্রামে নিম্নমানের বীজে ভুট্টা চাষ করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষক ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় আড়াইশ বিঘা জমিতে চাষ করা ‘নসিব-৪০৫৫’ ও ‘প্রাইম-৩৩৫৫’ জাতের বীজে আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় কোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কেউ কেউ আবার প্রতি বিঘা ১২ হাজার টাকা দরে জমি লিজ নিয়েও চাষ করেছেন। কিন্তু ফলন এসেছে হতাশাজনক- কিছু জমিতে ভুট্টা তোলার মতো ফসলই হয়নি, আবার কোথাও সর্বোচ্চ ২ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জমিতে গাছ বড় হলেও শিষ (মোচা) ধরেনি। আবার যেসব গাছে শিষ এসেছে, সেগুলো আকারে ছোট ও অসম্পূর্ণ। ফলে পুরো আবাদ কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, স্থানীয় কৃষকরা সাদাব্রিজ সড়কের কৃষি পল্লী সিড স্টোরের মালিক নাজমুল হুদা রাব্বির কাছ থেকে এসব বীজ সংগ্রহ করেন। কৃষকদের অভিযোগ, বীজ বিক্রির সময় উচ্চ ফলনের আশ্বাস দিয়ে প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ মণ ভুট্টা উৎপাদনের কথা বলা হয়েছিল। সেই আশ্বাসে দুই গ্রামের কৃষকরা ব্যাপক আকারে এই বীজ ব্যবহার করেন। কিন্তু বাস্তবে ফলন বিপর্যয় ঘটায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তারা জানান, বিষয়টি বিক্রেতাকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সন্তোষজনক সমাধান পাওয়া যায়নি এবং কোম্পানির প্রতিনিধিকেও সামনে আনা হয়নি।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শিমুল বলেন, ‘সাড়ে তিন বিঘা জমিতে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা খরচ করেছি। ভালো ফলনের আশায় সব বিনিয়োগ করেছিলাম, এখন আমি সর্বস্বান্ত।’ কৃষক সুলতান জানান, ‘৫ বিঘা জমিতে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা খরচ করেছি। এখন কিছুই নেই- সব শেষ।’ লিজ নিয়ে চাষ করা কৃষক তানজেল বলেন, ‘দেড় বিঘা জমি ১২ হাজার টাকা বিঘা দরে লিজ নিয়ে চাষ করেছি। শুরুতে গাছ ভালো ছিল, কিন্তু এখন সব নষ্ট। আমাদের ক্ষতি কে পূরণ করবে?’
এলাকার আরও অনেক কৃষক যেমন আব্দুল রহিম, আজিজুল, হাসেম আলী, ইকরামুল, আলতাব, লালু, জিয়ারুল, ঠান্ডু ও বিল্লাল একই ধরনের ক্ষতির অভিযোগ করেছেন। বীজ বিক্রেতা নাজমুল হুদা রাব্বি দাবি করেন, তিনি ময়মনসিংহ জেলার একটি কোম্পানি থেকে বীজ সংগ্রহ করে বিক্রি করেছেন, যা ভারত থেকে আমদানি করা। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও এমন ফলন প্রত্যাশা করিনি। কোম্পানির প্রতিনিধিদের আনার চেষ্টা করছি। আমি বাকিতে কেজিপ্রতি ৬০০ টাকা দরে বীজ বিক্রি করেছি।’


এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশ জানান, কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। যেখানে প্রতি বিঘায় ৪০-৪৫ মণ ফলন হওয়ার কথা, সেখানে ফলন একেবারেই বিপর্যস্ত- এটি উদ্বেগজনক। তিনি আরও জানান, বিষয়টি জেলা পর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে এবং বীজের উৎস ও মান যাচাই করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় ‘নিমগ্ন পাঠাগারে’ সেমিনার অনুষ্ঠিত