মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কালীগঞ্জে গাইড বাণিজ্যে অর্ধকোটি লেনদেন, ইউএনও’র হুঁশিয়ারি

৪২ দিনেও তদন্ত শেষ হয়নি, জমা আছে ২৪ লাখ
  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০৪-২০২৬ ইং
কালীগঞ্জে গাইড বাণিজ্যে অর্ধকোটি লেনদেন, ইউএনও’র হুঁশিয়ারি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে অবৈধ গাইড বই চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষক সমিতির দুই নেতা পাঞ্জেরী পাবলিকেশন থেকে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ২৪ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হলেও বাকি টাকা তারা পকেটস্থ করেছেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জড়িতদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


অভিযোগ উঠেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক আমিনুস সোবাহান রাজা ও সদস্যসচিব আহসান হাবিব উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনের অবৈধ গাইড চালানোর কথা বলে কোম্পানির সঙ্গে অর্ধকোটি টাকার চুক্তি করেন। কোম্পানি সমিতির রূপালী ব্যাংকের হিসাবে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২৪ লাখ টাকা জমা দেয়। বাকি টাকা দুই নেতাকে নগদ প্রদান করা হয় বলে জানা গেছে।


বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় জানাজানি হলে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান গত ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও ৪২ দিন পার হয়েও তা জমা দেয়নি। কমিটির প্রধান কালীগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ।


আব্দুল আলিম গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, ‘তদন্ত কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’ কালীগঞ্জের অভিভাবক সেলিম হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়েকে শিক্ষকরা পাঞ্জেরী গাইড কিনতে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু এত টাকা দিয়ে গাইড কিনতে পারছি না।’ উপজেলার প্রায় সব স্কুলের শিক্ষকরাও শিক্ষার্থীদের গাইড কিনতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।


অভিযোগ প্রসঙ্গে সমিতির সদস্য সচিব আহসান হাবিব বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’ অন্যদিকে আহ্বায়ক আমিনুস সোবাহান রাজাকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পাঞ্জেরী পাবলিকেশনের বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন স্বর্ণকার জানান, ‘শিক্ষকদের টাকা বা উপঢৌকন দেওয়ার ব্যাপারটা এজেন্ট ও কোম্পানি সরাসরি করে থাকে। মার্কেটিংয়ের জন্য উপঢৌকন এখন বৈধ।’


ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষকদের সম্মানীর বিনিময়ে গাইড কেনার পরামর্শ ও অর্থ দেওয়া বেআইনি। শিক্ষকরা এটা করতে পারেন না। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, টাকার বিনিময়ে গাইড বই শিক্ষার্থীদের চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়, এটি সম্পূর্ণ অবৈধ।’ তিনি শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং দ্রুত বিষয়টি সুরাহার পরামর্শ দেন।



কমেন্ট বক্স