চুয়াডাঙ্গার দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে আপত্তিকর সামগ্রী রেখে ছবি তুলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ৪ কিশোর অনুতপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে মুচলেকা দেওয়ায় তাদেরকে মুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকল স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজসেবকদের উপস্থিতিতে তাদেরকে শেষবারের মতো সংশোধনের সুযোগ দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩০ মার্চ) দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে আপত্তিকর সামগ্রী রেখে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত করে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ৪ কিশোর তাদের এই ভুল শিকার করে এবং ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবে না এই মর্মে দেশবাসী ও এলাকাবাসীর কাছে একটি ভিডিও বার্তায় নিজেদের ভুল স্বীকার করে সকলের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।
তাদের বক্তব্যে জানিয়েছে, ‘আমরা যে অপরাধ করেছি, তার জন্য আমরা লজ্জিত, দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। না বুঝে আমরা এ কাজ করেছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করব না এবং অন্য কাউকেও এ ধরনের কাজ না করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ কিশোরদের পিতা-মাতাও উপস্থিত থেকে সন্তানের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে তাদের সঠিকভাবে দেখভাল করার অঙ্গীকার করেন।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে ২ জন নাবালক এবং ২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অনুরোধে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রথমবারের মতো তাদের মুচলেকা নিয়ে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিশোরদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, কিশোরদের অনুতাপ ও আত্মসমালোচনার এই দৃষ্টান্ত অন্যদের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে। এই বিবেচনায় তাদেরকে শেষ বারের মতো একটি সুযোগ দেওয়া হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কমরেড শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মজনুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাফিজুল আলম, দর্শনা পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক, দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম সাবু তরফদার, দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয় কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বুলেট, মাহাবুবউল ইসলাম খোকন, শরিফ উদ্দিন, নাহারুল ইসলাম, দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন, সাংবাদিক আহসান হাবীব মামুন, ইমতিয়াজ আহমেদ রয়েল, সুকমল চন্দ্র দাস বাঁধন, দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাফিজুর রহমান, মেমনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির আহ্বায়ক তানভীর অনিক, যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান রিফাত, দর্শনা সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রাশেদ মল্লিক।
নিজস্ব প্রতিবেদক (দর্শনা অঞ্চল)