মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
দামুড়হুদা ও জীবননগরে দিনভর ফুয়েল কার্ড বিতরণ

কার্ড না পেয়ে ফিরে গেলেন অনেকেই

  • আপলোড তারিখঃ ০১-০৪-২০২৬ ইং
কার্ড না পেয়ে ফিরে গেলেন অনেকেই

দামুড়হুদা উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও দর্শনা পৌরসভা এবং জীবননগর উপজেলার মোটরসাইকেল চালকেরা বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়ে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে উপজেলা প্রশাসনের দিকনির্দেশনায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে তারা ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করেন। তবে অনেকেই কার্ড না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে জেলা প্রশাসন থেকে আরও দুই দিন সময় বাড়ানো হয়।
 জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে উপজেলা প্রশাসনের দিকনির্দেশনায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৫টি বুথের মাধ্যমে ১ হাজার ৬০০ ফুয়েল কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে ফুয়েল কার্ড শেষ হয় অনেকেই হতাশার ছাপ নিয়ে ফিরে গেলেন বাড়ি। দামুড়হুদা উপজেলার একাডেমি সুপারভাইজার, সমাজসেবা, মৎস্য, শিক্ষা অফিসার, পিআইও কর্মকর্তারা ও স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ সচিবসহ প্রত্যেক বুথে ৫ সদস্য মিলে বৈধ কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জমা নিয়ে ফুয়েল কার্ড বিতরণ করেন।


এদিকে ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে ভোর রাত থেকেই নিজ নিজ যানবাহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা পরিষদে ভিড় জমান চালকেরা। ফলে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে দেখা যায় তাদের। 
এর আগে গত রোববার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে জেলায় জ্বালানি তেলের মজুত, পরিবহন, বিপণন ও ব্যবহার সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ফুয়েল কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পহেলা এপ্রিল থেকে কার্ড ছাড়া তেল দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার সকাল থেকে জেলায় কার্ড বিতরণ শুরু করা হয়। এ জেলার সব উপজেলার চালকদের ভিড়ে হিমশিম খেতে হয় ও এখানে মারামারির মতো ঘটনাও ঘটে।

পরে দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলার স্ব-স্ব উপজেলা থেকে কার্ড বিতরণ করা হবে। এমন খবরে ভোর রাত থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে চালকরা ভিড় জমান। এতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন সুবিধার্থে ইউনিয়নভিত্তিক ভাগ করে সকাল ৮টা থেকে যানবাহনের বৈধ কাগজপত্রের ফটোকপি জমা নিয়ে জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত ১ হাজার ৬০০  কার্ড বিতর করা হয়। কার্ড পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপকারভোগীরা। 
উপজেলার অনেক ভুক্তভোগীরা জানান, তিনি ভোর ৪টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়ান এবং সকাল ৮টার দিকে কার্ড হাতে পান। তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে তেল সংগ্রহ করা অনেক সহজ হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন আলম বলেন, সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সব উপকারভোগীর কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের নিকট থেকে ১ হাজার ৬০০ কার্ড পেয়েছি, আজই সব শেষ হয়ে গেছে। কার্ড আনতে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার আবারও বিতরণ করা হবে। এবং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে জীবননগরে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মোটরসাইকেল চালক আবেদন জমা দিতে উপস্থিত হন। সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৌরসভাসহ প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছে। আবেদন জমা দিতে আসা শিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিতে পারিনি। খুব হতাশ ছিলাম। পরে জানতে পারি উপজেলাতেই জমা দেওয়া যাবে। আজ এসে দেখি সুন্দর ব্যবস্থা-  খুবই ভালো লাগছে।


উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাত্র দুই দিনে (৩০ ও ৩১ মার্চ) সব আবেদন গ্রহণ সম্ভব নয়। তাই আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কার্যক্রম আরও কয়েকদিন চলমান থাকতে পারে।



কমেন্ট বক্স