চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার করেছে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসনের সঙ্গে মিনি বাস মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের এক আলোচনা সভায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল। আলোচনা সভায় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা ইজিবাইক, রিকশা ও পাখিভ্যান চালক ও মালিক সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, জেলার এক উপজেলার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক অন্য উপজেলায় চলাচল করতে পারবে না। উপজেলা ও পৌরসভাভিত্তিক ইজিবাইকের জন্য আলাদা রং নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইজিবাইকে নির্ধারিত রং করা হলে কোন এলাকার ইজিবাইক তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্ধারিত রং না করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ‘আপনারা উক্ত যানবাহন চালানোর ফলে এখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয় এবং তাঁদের সংসার চলে। তাই এটার সুযোগ নিয়ে কেউ কারও সঙ্গে অন্যায় আচরণ করতে না পারে, সেটা আমাদের দেখার দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু অন্যায় আচরণ করেছে বা করছে, আমাদের পুলিশ বাহিনী এবং আমাদের এসপি সাহেবের প্রতিনিধিদের অনুরোধ থাকবে, এসব দুষ্কৃতিকারীকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা।’
ইজিবাইক মালিক সমিতির নেতাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আপনারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আয় করুন। তা না হলে আমরা শক্তভাবে আইনি ব্যবস্থা নেব।’
বাস মালিকদের স্বেচ্ছাসেবকদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা যত্রতত্র ভ্যান থেকে লাঠি দিয়ে লোক নামাচ্ছে, যেটা বিভ্রান্তিকর। এতে যাত্রীরা আহত হতে পারে। কিন্তু বিগত মিটিংয়ে বাস মালিকদের এ ধরনের কাজ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘যদিও হাইকোর্ট থেকে মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ রয়েছে, ছোট রাস্তায় চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আবার জেলার বেশিরভাগ বাসের ফিটনেস ঠিক থাকে না। সুপারভাইজারদের আচরণও ভালো থাকে না, এবিষয়ে সতর্ক হন"
তিনি বলেন, ‘বাস ও থ্রি-হুইলারÑদুটোর সমন্বয় করাই আমাদের কাজ। ইজিবাইকগুলোতে এক সপ্তাহের ভিতর রং করতে হবে। রং করার কাজের গতির হিসাব পৌরসভার লোক দেবে। এতে অন্যান্য উপজেলার ইউএনওরাও সংযুক্ত থাকবেন।’
অটোচালকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘রাস্তায় চলার সময় সাবধান থাকতে হবে। বেশি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। আপনাদের রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স লাগে না বলে রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ভেতরের রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারবেন এবং উপজেলার সদরে আসতে পারবেন না। পৌরসভার ভেতরেও ঢুকতে পারবেন না।’
ইজিবাইকে নির্ধারিত রং করার বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আপনাদের আজকে শনিবার হতে আগামী শনিবার পর্যন্ত রং করার সময় দেওয়া হলো। তা না হলে রবিবার থেকে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ইজিবাইক চালকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা হাইওয়েতে ইজিবাইক কেন চালাবেন? আপনাদের একটি সীমানা ঠিক করে দেওয়া আছে, তার বাইরে আপনারা গাড়ি কেন নিয়েছেন?’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ১০টি বাস আটকে রেখেছেন, মারধরও করেছেন। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন। আপনারা একটি অপরাধ সংঘটিত করেছেন। আপনাদের সঙ্গে খারাপ কিছু হলে তার জন্য আইন আছে। আপনারা তো আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না।’
আলোচনা শেষে প্রশাসন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের বক্তব্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল চুয়াডাঙ্গার পাঁচটি আন্তঃজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এসময় জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বাস চলাচল বন্ধ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের নির্দেশ দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক-উজ-জামান, পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজ উল-ইসলাম, সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান, ট্র্যাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আমিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দিন মুক্তা, জেলা ইজিবাইক রিকশা ও পাখিভ্যান চালক ও মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আবু সাঈদ, সিনিয়র সভাপতি মঞ্জুরুল হকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক