সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) যাতে পুশ-ইন করতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক ও বিজিবিকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টা থেকে পৌনে ৬টা পর্যন্ত মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) উদ্যোগে মাধবখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ধোপাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক বলেন, বর্তমানে বিএসএফ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা করছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। পুশ-ইন প্রতিরোধে বিএসএফের গেট পাহারা দেওয়া, সীমান্তের ওপারে থাকা আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা বিজিবিকে জানানো এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে বিজিবির পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে অবৈধভাবে সার পাচারের সম্ভাবনা রয়েছে। সার পাচার প্রতিরোধে সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র সার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ না করা, শূন্যলাইন অতিক্রম না করা, সন্ধ্যার পর শূন্যলাইনে যাতায়াত বা অবস্থান না করা এবং মাদক, স্বর্ণ, গরু, মানুষ ও শিশু পাচারসহ সব ধরনের চোরাচালান সামাজিকভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া মাদককে সামাজিকভাবে বয়কট, চোরাকারবারি ও মানবপাচারকারীদের সম্পর্কে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা, সীমান্ত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সতর্ক থাকা, শূন্যলাইন বরাবর গবাদিপশু না চড়ানো, সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঘাস কাটতে না যাওয়া, ভারতীয় জমি লিজ নিয়ে চাষ না করা এবং অহেতুক সীমান্ত এলাকায় না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সভায় বিজিবির অধিনায়ক জানান, ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা অব্যাহত থাকবে।
মতবিনিময় সভায় মহেশপুর ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান, মাধবখালী কোম্পানি কমান্ডার, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ প্রায় ৩০০ থেকে ৩২০ জন স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত স্থানীয়রা বিজিবির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সীমান্ত অপরাধ ও পুশ-ইন প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমীকরণ প্রতিবেদক