বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

নেশার টাকার জন্য নিজের সন্তানকে অপহরণ করে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি বাবার

পুলিশের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে সিয়াম উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
  • আপলোড তারিখঃ ১৮-০৩-২০২৬ ইং
নেশার টাকার জন্য নিজের সন্তানকে অপহরণ করে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি বাবার

ভারতে কাজ করেন সাতক্ষীরা জেলার কালোরোয়া উপজেলার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. আজিজুলের (২৮) স্ত্রী। আর দেশে কাজ না করে ঘুরে বেড়ান আজিজুল। নিজের আয় না থাকায় প্রায়ই নেশাসহ বিভিন্ন কারণে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করতেন তিনি। তবে সম্প্রতি স্ত্রী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হন তিনি। রাগে নিজের ছেলেকে অপহরণ করে স্ত্রীর কাছে মুক্তিপণ দাবি করেন মো. আজিজুল। তবে জীবননগর থানা-পুলিশ ও ডিবির অভিযান সহযোগীসহ ধরা পড়েন তিনি।


জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান সেখ জানান, গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিয়ামের বাবা এক সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে নিজের ছেলেকে অপহরণ করেন। পরে তাকে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে বেঁধে রাখেন। সন্তানকে হাত বাঁধা অবস্থায় গলায় ধারালো হাসুয়া ধরে একটি ছবি তার মায়ের কাছে পাঠান আজিজুলের সহযোগী। এসময় তিনি ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। এসময় তার মা বিকাশে ১০ হাজার ৩০০ টাকা পাঠান।


ওসি সোলায়মান সেখ বলেন, এ ঘটনার অভিযোগ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের নির্দেশনায় জীবননগর থানা-পুলিশ ও ডিবির (সিসিআইসি) টিম দ্রুত অভিযানে নামে। তারা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের লোকেশন শনাক্ত করে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর থানার পাঁকা দাসপাড়া এলাকা থেকে শিশুটির পিতা মো. আজিজুল (২৮) ও তার সহযোগী জীবননগর দক্ষিণপাড়ার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মো. আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় সিয়ামকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযানকালে বিকাশে পাঠানো ১০ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ৭ হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করা হয়।


ওসি সোলায়মান সেখ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানতে পারে, শিশুটির মা ভারতে অবস্থান করছেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার বাবা ও সহযোগী শিশুটিকে জিম্মি করে তার গলায় অস্ত্র ধরে ছবি তুলে মায়ের কাছে পাঠিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। প্রাথমিকভাবে তার মা তাদের ১০ হাজার ৩০০ টাকা বিকাশে পাঠান। এসময় তারা আরও টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন। পরে তারা পুলিশের শরণাপন্ন হন।


ওসি সোলায়মান সেখ বলেন, বর্তমানে আটক দুজন থানা হেফাজতে রয়েছে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

ভয়াল ২৫ মার্চ আজ, জাতীয় গণহত্যা দিবস