সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের সাথে দুই সংসদ সদস্যের মতবিনিময়

অপেক্ষা করেও চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে গেলেন শত শত রোগী

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বললেন পিক আওয়ারে সাময়িক ব্যাঘাত অনাকাঙ্ক্ষিত
  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০২-২০২৬ ইং
অপেক্ষা করেও চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে গেলেন শত শত রোগী

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা শত শত মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে ডাক্তার না দেখিয়েই ফিরে গেলেন। যখন হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় এবং সেবার সর্বোচ্চ ব্যস্ত সময় (পিক আওয়ার), ঠিক তখনই চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন জেলার দুই সংসদ সদস্য। গতকাল রোববার দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা অব্দি দীর্ঘ সময় চিকিৎসকরা সভাকক্ষে অবস্থান করায় হাসপাতালের বারান্দায় ও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ডাক্তার না দেখিয়েই ফিরে যেতে হয় শত শত রোগী সাধারণের।


সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা রোগীরা টিকিট নিয়ে ডাক্তারদের চেম্বারের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভিড়ও বাড়ছিলো। তবে বেলা সাড়ে ১১টা থেকেই চিকিৎসকরা নিজেদের চেম্বার ছেড়ে হাসপাতালের সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের সাথে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমারসহ চিকিৎসহ, নার্স ও স্টাফগণ উপস্থিত হন।


সাড়ে ১১টার পর থেকেই দিনব্যাপী থমকে যায় স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। বেলা আড়াইটায় মতবিনিময় সভা শেষ হয়। তবে তখন আর কোনো চিকিৎসককে চেম্বারে ফিরতে দেখা যায়নি। সে সময় ক্ষুদ্ধ রোগীরা চিকিৎসক না দেখিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন। অসুস্থ শরীর নিয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় বসে থাকা রোগীদের মধ্যে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। অনেক বৃদ্ধ ও শিশুকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তারের দেখা না পেয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেও কোনো সমাধান হয়নি।


ফিরে যাবার সময় জীবননগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের রোগী আবুল জলিল মিয়া বলেন, ‘রোজামুখে কাজ-কাম কামাই দিয়ে এসছি। এক্টা দিনই নষ্ট হইলো। এমডা কেউ করে? কারু হুশ নাই।’ ভুক্তভোগী এক চিকিৎসাপ্রার্থী আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদহ গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, “আমরা দূর-দূরান্ত থেকে অনেক আশা নিয়ে ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছি। কিন্তু ডাক্তাররা মিটিংয়ে ব্যস্ত। জনসেবা করতে এসে সংসদ সদস্যদের এমন ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ আচরণ আমাদের অবাক করেছে। পিক আওয়ারে এমন সভার কোনো মানে হয় না।”


সদর উপজেলার দীননাথপুর গ্রামের বৃদ্ধ আনিসুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নেতারা মানুষের কথা চিন্তা করলে এমন সময়ে মিটিং ডাকতেন না। এ দেশ ফাটাকেষ্ট ছবির মতো পিটাতি হবে।’
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যদ্বয় হাসপাতালে মতবিনিময়ের জন্য সময় দিয়েছিলেন। ওনারা যখন সময় দিয়েছেন, আমরা তখনি সভা করেছি। পিক আওয়ারে এমন কর্মসূচির কারণে চিকিৎসাসেবায় কিছুটা সাময়িক ব্যাঘাত ঘটেছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি দেখব। এর বাইরে কিছু বলতে পারব না।’



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় চুরির মামলার আসামি দুদু গ্রেপ্তার