মেহেরপুরের গাংনীতে এক শিশুকে যৌন নির্যাতন চেষ্টার অভিযোগে জামায়াত নেতার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গত বুধবার রাতে শিশুটির পিতা বাদী হয়ে ধানখোলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ঢেপা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে জুনায়েদ আলীর (১৫) বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে বেলা দেড়টার দিকে গাংনী উপজেলার ঢেপা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মৃত আবুল খায়েরের ছেলে জালাল উদ্দীনের নির্মাণাধীন ভবনের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। মামলার আসামি জুনায়েদ আলী পার্শ্ববর্তী গ্রামের একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
যৌন নির্যাতনের চেষ্টার ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এই ঘটনাটি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। মামলা হওয়ার পর থেকে জুনায়েদ আলী পলাতক রয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে জুনায়েদ আলীর পরিবার। শিশুর মা জানান, কুল দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে ঘরের মধ্যে নিয়ে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে জুনায়েদ আলী। পরে তার মেয়ে বিষয়টি জানালে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তিনি যৌন নির্যাতনের চেষ্টা-কারী জুনায়েদের বিচার দাবি করেন।
শিশুটির দাদা আদম আলী জানান, মাঠ থেকে বাড়ি এসে জানতে পারি ধানখোলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে জুনায়েদ আমার নাতনিকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে।
শিশুটির পিতা বলেন, আমার মেয়ে ও আমার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে আমার বাড়ির সামনে গেটের সামনে রাস্তায় খেলা করছিল। এসময় জুনায়েদ আমার মেয়েকে কুল (বরই) দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায় এবং আর অন্যজন বাড়ির দিকে চলে যায়। দুপুর পর্যন্ত মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। আমার স্ত্রী রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমার মেয়ের নাম ধরে ডাকাডাকি করতে থাকলে আমার মেয়ে পায়জামা অর্ধেক খোলা অবস্থায় নির্মাণাধীন ঘরের ভেতর থেকে দৌড়ে বের হয়ে তার মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। আমার স্ত্রী নির্মাণাধীন ঘরের ভিতরে গিয়ে জুনায়েদকে দেখে জিজ্ঞাসা করে আমার মেয়েকে তুই কি করলি। সাথে সাথে জুনায়েদ আমার স্ত্রীর পা চেপে ধরে বলে ভাবী আমাকে মাফ করে দেন।
এ ব্যাপারে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা.তাজমিরা খাতুন বলেন, শিশুটিকে এখানে নিয়ে আসলে হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে বলা হয়।
এ বিষয়ে জুনায়েদের পিতা ধানখোলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার ছেলের বয়স ১৩ বছর। এই বয়সে আমার ছেলে ধর্ষণ করতে পারে না। আমি ন্যায় ও ইনসাফের জন্য কাজ করি, আমি ধানখোলা ইউনিয়ন জামাতের আমির, এই ইউনিয়নে জামাতের জনপ্রিয়তা বেশি থাকায় আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। এ ঘটনা সত্য হলে আমার ছেলের বিচার অবশ্যই হবে। আর যদি মিথ্যা হয় আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, আব্দুর রাজ্জাক ধানখোলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির পদে দায়িত্ব পালন করছেন, এটা ষড়যন্ত্র রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এই অপবাদ দেয়া হচ্ছে।
এবিষয়ে গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, যৌন নির্যাতনের চেষ্টার ঘটনায় মেয়েটার পিতা বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি মামলা করেছে। মামলা নং ০৬ তাং ০৪.০২.২৬ ইং। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই তারেক মো. নাহিয়ান বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ঐ মেয়েকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দির জন্য নেওয়া হবে। এছাড়া আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।
প্রতিবেদক গাংনী