দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন আমেরিকা, মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে মেহেরপুরের বিষমুক্ত বাঁধাকপি। বৈদেশিক বাজার আরও সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারি সহায়তা চান কৃষক ও রপ্তানিকারকরা। মেহেরপুর জেলার কৃষকদের উৎপাদিত নিরাপদ ও বিষমুক্ত বাঁধাকপি ইতোমধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। বিভিন্ন সবজি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ জেলার বাঁধাকপি আমেরিকা, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, লন্ডন, ইন্দোনেশিয়া ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে।
রপ্তানিকারকরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে মেহেরপুরের বাঁধাকপির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তবে প্রশাসনিক জটিলতা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে সবজি রপ্তানিতে নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এসব জটিলতা দূর করে সরকারিভাবে বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণ ও রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপির আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন বাঁধাকপি। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ এখন রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। রপ্তানিকারকরা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি পিস বাঁধাকপি ১৪ থেকে ১৬ টাকা দরে কিনছেন, যা বিদেশের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা নতুন বাজারের আশা দেখছেন, তেমনি মেহেরপুরে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি সম্ভাবনাময় খাত তৈরি হচ্ছে।
বাঁধাকপি চাষি দবির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের উৎপাদিত বাঁধাকপি এখন বিদেশে যাচ্ছে- এটা আমাদের জন্য গর্বের। তবে রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ হলে আমরা ন্যায্য দাম পেতাম এবং উৎপাদন আরও বাড়াতে পারতাম।’ আরেক কৃষক হাসান আলী বলেন, ‘বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে আমরা নিয়ম মেনে চাষ করছি। সরকার যদি সরাসরি রপ্তানির সুযোগ তৈরি করে দেয়, তাহলে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমবে।’
কৃষক হুয়াদ আলী জানান, ‘আগে সবজি বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এখন বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় চাষে আগ্রহ বেড়েছে। বাজার আরও বাড়লে কৃষকরা উৎসাহ পাবে।’ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘মেহেরপুরের বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন সবজি রপ্তানির জন্য সদর দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আগামীতে রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়বে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সনজীব মৃধা জানান, ‘ইতোমধ্যে জেলার উৎপাদিত প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন সবজি বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাপ (এঅচ) সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে রপ্তানিতে সহায়তা করা হচ্ছে।’
মেহেরপুরের বাঁধাকপি বিশ্ববাজারে ব্যাপক চাহিদা পেলেও সরকারিভাবে বাজার সম্প্রসারণ ও রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ করা গেলে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি জেলার অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে—এমন প্রত্যাশাই কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের।
প্রতিবেদক গাংনী