বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
চুয়াডাঙ্গায় ১০টি কেন্দ্রে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থী আটক

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০১-২০২৬ ইং
অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থী আটক

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর লিখিত পরীক্ষায় নকল ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জেলার পৃথক দুটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক দুজনই বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।


চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলার ১০টি কেন্দ্রে একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮ হাজার ৫৪৯ জন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৬ হাজার ৭৩৭ জন।


পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ কেন্দ্র থেকে মোহাম্মদ আশিকুর রহমান (রোল নম্বর ৬৬১৪১৪৮) নামের এক পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তিনি দর্শনা থানার সদাবরী গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। নকল এমসিকিউ শিট নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কক্ষ পরিদর্শকের নজরে পড়লে বিষয়টি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়। পরে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র থেকে মোছাঃ উম্মে রুমানা খানম অনিমা (রোল নম্বর ৬৬১১৯৬৪) নামের এক পরীক্ষার্থীকে স্মার্টওয়াচসহ আটক করা হয়। তিনি সদর উপজেলার খেজুরা গ্রামের ইদ্রিস আলীর মেয়ে। পরীক্ষার সময় স্মার্টওয়াচ ব্যবহারের অভিযোগে তাকেও আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।



এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি. এম. তারিক-উজ-জামান বলেন, পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, আটক পরীক্ষার্থীরা বর্তমানে থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, জেলার চার উপজেলায় এবার মোট শূন্য পদের সংখ্যা ১০৭টি। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৩০টি, জীবননগরে ২৫টি, দামুড়হুদায় ৩৩টি এবং চুয়াডাঙ্গা সদরে ১৯টি পদ রয়েছে। সে হিসাবে প্রতি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৮০ জন পরীক্ষার্থী প্রতিযোগিতা করছেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত শূন্য পদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্তে পরীক্ষার্থীদের কান উন্মুক্ত রাখতে বলা হয় এবং প্রয়োজনে তল্লাশি জোরদার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

আলমডাঙ্গায় ঢাবিতে চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সাথে এসএমজে