ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু পাচার হচ্ছে। বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে সীমান্তের কয়েকজন প্রভাবশালী বাংলাদেশি চোরাকারবারি ও বিএসএফের কতিপয় অসৎ সদস্য মহেশপুরের লড়াইঘাট এলাকা দিয়ে এই পাচার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মহেশপুর সীমান্তে সপ্তাহব্যাপী অনুসন্ধান করে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় পূর্বপাড়া এলাকার ইদু শেখের ছেলে মোমিনুর শেখ, আনন্তপুর গ্রামের মনি মেম্বার, লড়াইঘাট গ্রামের রহিম মেম্বার, শ্যামকুড় পশ্চিমপাড়ার জহুরুল ইসলাম জুরু, স্বরুপপুর ইউনিয়নের হানিফপুরের জহু, স্বরুপপুর গ্রামের খেদের মেম্বার ভারতীয় গরু পাচারকারী হিসেবে কথিত আছে। এই চক্রটি বিএসএফের সহায়তায় সীমান্তের নির্দিষ্ট পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে গরু প্রবেশ করাচ্ছে।
সূত্র মতে, ভুটানি গরু ও ভারতের পান্ডুয়া বাজারের বিখ্যাত ‘পান্ডু গরু’ ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাসখালি থানাধীন নদীয়া জেলার ওমরপুর, ছুটিপুর, ফতেহপুর, পাখি উড়া ও খাটুরা এলাকা হয়ে মহেশপুর উপজেলার লড়াইঘাটের হাড়িঘাটার দক্ষিণ পাশ দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এসব রুট মূলত রাতের আঁধারে ব্যবহার করা হয়।
সীমান্ত এলাকার মানুষ জানায়, গরু পাচারে বিএসএফের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন নয়। ২০১৮ সালে বিবিসি ও ডয়েচেভেলের প্রতিবেদনে গরু পাচারের তথ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। ডয়েচেভেলের প্রতিবেদনে বলা হয় ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) তদন্তে গরু পাচারকারী মহাজন এনামুল শেখসহ তৎকালীন ও সাবেক কয়েকজন বিএসএফ কর্মকর্তার নাম উঠে আসে। সে সময় তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি ছিল, পাচারকারীদের সহযোগিতার বিনিময়ে কেউ কেউ ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেয়।
গরু পাচারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সীমান্ত এলাকার শরিফুল ইসলাম (ছদ্মনাম) জানান, মহাজনরা বাংলাদেশ থেকে বিএসএফের কাছে গরুর ছবি পাঠায়। বিএসএফ সবুজ সংকেত দিলে সন্ধ্যার আগেই তারা ভারতে অবস্থান নেয় এবং রাত গভীর হলে নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে গরু পার করে দেয়। পাচারকৃত এসব গরু চুয়াডাঙ্গার শিয়ালমারি ও ডুগডুগির হাটে বিক্রি করা হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজে পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে শরিফুল আরো জানান, ভারত থেকে একটি গরু সফলভাবে বাংলাদেশে আনতে পারলে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। তবে গরুর জাত ও বাজারমূল্য ভেদে কখনো কখনো এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়।
এদিকে মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে দেদারসে গরু পাচারের ফলে দেশীয় খামারিরা বিপাকে পড়ছে। এভাবে চোরাই পথে যদি গরু আসতে থাকে তবে ঝিনাইদহের ১৮ হাজার খামারি পথে বসতে পারে বলে হরিণাকুন্ডুর হাফিজুর রহমান নামে এক খামারি জানান।
গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত মোমিনুর শেখ বলেন, গরু পাচারের বিষয়টি এখন আর আগের মতো নেই। একটা সময় ওপার থেকে গরু আসতো। এখন এসরে সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট নন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা এবং বানোয়াট বলেও তিনি দাবি করেন।
গরু পাচার নিয়ে ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল আলম গতকাল শুক্রবার জানান, সীমান্ত দিয়ে গরু চোরাকারবারির বিষয়ে বিজিবির অবস্থান সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি। এ প্রেক্ষিতে, সীমান্তে টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গরু চোরাকারবারি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার জন্য সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং গরু চোরাকারবারি আমরা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি।
ঝিনাইদহ অফিস