ঝিনাইদহ-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান লড়বেন কী প্রতীক নিয়ে.. ধানের শীষ না ট্রাক? তিনি ঝিনাইদহ-২ আসন দাবি করলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী এলাকায় রাশেদ খানের পক্ষে নির্বাচনী সভা করবেন, এমন শর্তে রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪ আসনে প্রার্থী হতে সম্মত হন বলে রাশেদ খান নিজেই এ তথ্য জানান গণমাধ্যমকর্মীদের।
এদিকে, রাশেদ খান ঝিনাইদহ-৪ আসনে সমমনা জোটের প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে চারটির মধ্যে তিনটি আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এরমধ্যে ঝিনাইদহ-১ আসন আসাদুজ্জামান, ঝিনাইদহ-২ আসনে অ্যাড এম এ মজিদ ও ঝিনাইদহ-৩ আসনে আগেই সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মেহেদী হাসান রণির মনোনয়ন চূড়ান্ত করে দলটি।
তবে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রাশেদ খানের নাম ঘোষণার পর থেকেই কালীগঞ্জের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। নেতাকর্মীদের অনেককে কান্নাকাটি করতে দেখা গেছে। তবে এটা সাময়িক বলে মনে করছেন দলের নীতি নির্ধারকরা।
মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাশেদ খান বলেন, মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপির অফিসে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ উপস্থিত ছিলেন। ওই আলোচনায় ঝিনাইদহ-৪ আসনে আমাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে গৃহীত হয়েছে।
রাশেদ খান জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঝিনাইদহ-৪ নির্বাচনী এলাকায় তার পক্ষে নির্বাচনী সভা করবেন, এমন শর্তে তিনি ঝিনাইদহ-৪ আসনে প্রার্থী হতে সম্মত হন। এসব বিষয়ে খুব শিগ্গির বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও তিনি জানান।
এদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নতুন করে রাশেদ খানের নাম চাউর হওয়ায় নানা রকম প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কালীগঞ্জের সাধারণ ভোটার ও বিএনপির সাধারণ কর্মীদের মাঝেও ছড়িয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। বিগত দিনগুলোতে কালীগঞ্জে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ ও কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।
কালীগঞ্জের একাধিক তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী জানান, ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা। নির্বাচনী হালচাল সেটাই জানান দিচ্ছে। কাজেই এই আসনে দলের ত্যাগী প্রার্থীরা স্থান পেলে বিএনপির ভোটের পাল্লা ভারি হওয়া সহজ হবে। তবে, রাশেদ খান জোটের প্রার্থী হলে কালীগঞ্জের তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীরা কী ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখাবে সেটাই দেখার বিষয়।
সেখানকার সাধারণ ভোটার নিমাই চন্দ্র বলেন, কালীগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি বলতে হামিদ ও ফিরোজ ভাই। আমরা এই দুজনের যেকোনো একজনকে প্রার্থী হিসেবে পাবো বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু তা তো আর হলো না।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রাশেদ খান লড়বেন। তিনি (রাশেদ খান) বিএনপি নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের সহযোদ্ধা। রাশেদ খান সম্ভবত ধানের শিষ প্রতীক নিয়ে ভোট করবেন। সেটা হলে তিনি তো আমাদেরই লোক। কাজেই, বিএনপির নেতাকর্মীরা রাশেদ খানের পক্ষেই থাকবেন। আমরাও জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে রাশেদ খানের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবো।
ঝিনাইদহ অফিস