সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মুজিবনগর সরকারি আয়োজনে আইন ভঙ্গের প্রকাশ্য প্রদর্শনী

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন মানল না প্রাণিসম্পদ বিভাগ!
  • আপলোড তারিখঃ ০১-১২-২০২৫ ইং
মুজিবনগর সরকারি আয়োজনে আইন ভঙ্গের প্রকাশ্য প্রদর্শনী

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন–২০১২ অনুযায়ী যেখানে ময়না, টিয়া, কাকাতোয়া ও বিদেশি প্রজাতির পাখিকে খাঁচায় আবদ্ধ রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেছে, সেখানে সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই দেখা গেল সেই আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে অনুষ্ঠিত প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী মেলায় খাঁচাবন্দি পোষা ময়না, টিয়া ও অন্যান্য পাখি প্রদর্শনের ঘটনা সচেতন মহলে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

২৬ নভেম্বর জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের আয়োজনে মুজিবনগর প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, অবৈধ বন্যপ্রাণী বিক্রেতার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে একটি বড় স্টল। সেখানে বহু খাঁচাবন্দি বন্য পাখি প্রদর্শিত হলেও, সেটি থামানোর উদ্যোগ তো দূরের কথা—খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সাংবাদিকরাও ব্যস্ত ছিলেন ফটোসেশনে। বন্যপ্রাণী রক্ষার প্রচারণার বদলে দৃশ্যটি যেন সরকারি আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে আইন অমান্যের উল্টো পাঠশালা।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, যাদের দায়িত্ব আইন বাস্তবায়নের, তারাই যখন আইন ভঙ্গ করেন, তখন সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়। এতে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

মেলাকে ঘিরে প্রশাসনিক উৎসাহ থাকলেও, পুরো আয়োজনকে কেন্দ্র করে এখন উঠছে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন। সরকার যে বন্যপ্রাণী রক্ষার সচেতনতার কথা বলে, সেই বার্তা মেলাঙ্গনের খাঁচায় আটকা পাখিদের মতোই হারিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুজিবনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারিসুল আবিদ বলেন, “এগুলো নিষিদ্ধ এইভাবে বললে হবে না। পোষা প্রাণীর ক্ষেত্রে আইনের মধ্যেই বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।” এতটুকুই মন্তব্য করে তিনি ফোন কেটে দেন।

অন্যদিকে মেহেরপুর জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা এইচ টি হামিম হায়দার বলেন, “শালিক, ময়না, টিয়া, কাকাতোয়া—এসব দেশীয় পাখি খাঁচায় সংরক্ষণ বা পোষা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও আইনত দণ্ডনীয়। বিদেশি পাখি আবদ্ধ করে ব্যবসা বা পোষা হলে লাইসেন্স লাগে, যা ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশন থেকে নিতে হয়। আর আমার জানা মতে মেহেরপুর জেলায় কারও সেই লাইসেন্স নেই। প্রাণিসম্পদ মেলায় এ ধরনের প্রদর্শনী সম্পূর্ণ অবৈধ।”

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “বন্য প্রাণী আমাদের মেলায় আনা যাবে না। তবে কেউ যদি ২/১টি পোষা পাখি নিয়ে আসে, সেখানে সমস্যা নেই।”
তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়—বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২–এর তপশিল–১ এ টিয়া, ময়না, কাকাতোয়া খাঁচায় আবদ্ধ করে পোষা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উত্তরে তিনি বলেন, “আমাদের পাঁচটা ক্যাটাগরি ছিল—গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগির মতো। যদি আইন অমান্য করে কেউ দুই একটি বন্য পাখি নিয়ে এসে থাকে, সেটা তারা তাদের নিজ দায়িত্বে এনেছে।”

তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—আইন নিষিদ্ধ বন্য পাখি কীভাবে সরকারি প্রদর্শনী মেলায় স্টল পেল?

এই প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত একটি মেলায় এমন প্রকাশ্য আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের অবহেলা কেবল আইনের প্রতি অবজ্ঞাই নয়, বন্যপ্রাণী রক্ষার জাতীয় প্রচেষ্টাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

দামুড়হুদায় দীর্ঘ ২৫ বছর পর আদালতের রায়ে পৈত্রিক জমি ফিরে পেল পরিবার