সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’

উদ্বিগ্ন বিএনপি, দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা
  • আপলোড তারিখঃ ২৮-১১-২০২৫ ইং
বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষ দোয়া মাহফিলের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘গতকাল রাতে (বৃহস্পতিবার) ডাক্তাররা বলেছেন, তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়। সে জন্য আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে গণতন্ত্রের নেত্রী, গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তির জন্য সারাদেশের জনগণের কাছে, সারা দেশের মসজিদে মসজিদে দোয়া চেয়েছিলাম। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজকে নয়া পল্টনের মসজিদে নামাজ আদায় করে আমরা সবাই দেশনেত্রীর রোগ মুক্তির জন্য পরম করুণাময় আল্লাহ তালার কাছে দোয়া চেয়েছি।’


মহাসচিব বলেন, ‘আমরা দোয়া চেয়েছি আল্লাহতালা কাছে, তিনি যেন ম্যাডামকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দেন, সুস্থ অবস্থায় আবার জনগণের মাঝে ফিরিয়ে এসে দেশের মানুষের কাজ করার সুযোগ করে দেয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও দেশের মানুষের কাছে তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি। সবাই ম্যাডামের জন্য দোয়া করবেন।’


৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। গত  রোববার ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকার বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী সোমবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরেই উনি (খালেদা জিয়া) খুব ঘন ঘন আক্রান্ত হচ্ছিলেন। আজকে আমরা যে কারণে এখানে (এভারকেয়ার হাসপাতালে) ভর্তি করিয়েছি, সেটা হচ্ছে যে, উনার কতগুলো সমস্যা একসাথে দেখা দিয়েছে। সেটা হচ্ছে, উনার বুকে সংক্রমণ হয়েছে। যেহেতু উনার হার্টের সমস্যা আগে থেকেই ছিল। উনার হার্টে স্থায়ী পেসমেকার আছে এবং হার্টে ওনার স্ট্যান্টিং (রিং পড়ানো) করা হয়েছিল, রিং পড়ানো হয়েছিল। হার্ট ও ফুঁসফুঁস দুটোই একসঙ্গে আক্রান্ত হওয়াতে উনার খুব শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যা হচ্ছিল। সে জন্য এখানে আমরা খুব দ্রুত উনাকে নিয়ে এসেছি।’


গতকাল শুক্রবার দোয়া মাহফিলের পর মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশনেত্রী গণতন্ত্রের জন্য সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন, কারাভোগ করেছেন। সবশেষে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন।’ এর আগে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনেও বিএনপি মহাসচিব দলের চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম অসুস্থ হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে আছে। গতকাল রাতে আমি প্রায় ২টার সময়ে ফিরেছি হাসপাতাল থেকে। তখনও ডাক্তাররা চেষ্টা করছিলেন, কাজ করছিলেন। 'আমি অনুরোধ করব আপনারা আশু রোগমুক্তির জন্য দোয়া করবেন, দেশবাসীদের দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি আপনাদের মাধ্যমে।’ খুালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় রাজধানীসহ সারা দেশে মসজিদে মসজিদে জুমার পর দোয়া মাহফিল হয়েছে বলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন।
এদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি নিয়মিতভাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাথে প্রধান উপদেষ্টা তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিগগিরই সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন। গতকাল শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত। তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতির জন্য ভীষণ রকম অনুপ্রেরণা। তার সুস্বাস্থ্য দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা ও সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

দামুড়হুদায় দীর্ঘ ২৫ বছর পর আদালতের রায়ে পৈত্রিক জমি ফিরে পেল পরিবার