দলে অনুপ্রবেশকারী নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসিন্দ গ্রামে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপির দুই গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও নেপথ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একটি চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের যেসব নেতারা ৫ আগস্টের আগে এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করত, তারাই এখন বিএনপির একটি পক্ষে যোগ দিয়ে সামাজিক বিরোধ ও সংঘর্ষে ইন্ধন দিচ্ছে। এমনকি, তারা সরাসরি সংঘর্ষে যুক্ত হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ফুরসন্দি গ্রামের শাহাবুর মোল্লার সমর্থক আল-আমিনের সাথে বিএনপি নেতা জাহিদ বিশ্বাসের সমর্থক ফিরোজের পারিবারিক কলহ বাধে। পরে পারিবারিক কলহ রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এসময় উভয়পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এসময় ২টি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা অভিযোগ, জুলাই-২৪ বিপ্লব চলাকালে ৪ আগস্ট জেলা বিএনপির কার্যালয় ও বিএনপি সভাপতি এমএ মজিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেই মামলার আসামি ফুরসন্দি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওহাব মোল্লা, আওয়ামী লীগ কর্মী ইমরোজ, মজিদ মোল্লা, আক্তার মোল্লা বিএনপি নেতা শাহাবুর মোল্লার সমর্থক। এছাড়া ফুরসন্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউনুস মন্ডল, ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুরকে নিজের গ্রুপে টেনে নিয়েছেন বিএনপি নেতা শাহাবুর মোল্লা। আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে দল ভারী করে গ্রামে গ্রামে গিয়ে এরা মারামারি ও সংঘর্ষ ঘটিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে বিএনপি কর্মীদের অভিযোগ।
ফুরসন্দি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জাহিদ বিশ্বাস বলেন, শাহাবুর মোল্লার সাথে আওয়ামী লীগের অনেকেই যোগ দিয়েছে। এরা সব ৫ আগস্টের পরের বিএনপি। বিএনপি করা তো দোষের না, একজন আওয়ামী লীগ থেকে বা অন্য দল থেকে এসে বিএনপি করতেই পারে। কিন্তু, বিএনপিতে এসে মারামারি সংঘর্ষ করার তো কোনো সুযোগ থাকা উচিত না। আওয়ামী লীগের লোকজন সব এখন ৫ আগস্টের পরের বিএনপি। তারাই এসব ঝামেলা করছে।
শাহাবুর মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার সমর্থক, ফুরসন্দি ইউপি সদস্য ওহাব মোল্লা বলেন, আমি মেম্বারি করি। চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ করে। চেয়ারম্যান কাজে কামে ডাকলে না যেয়ে তো উপায় থাকে না। আমার চেয়ে বড় বিএনপি ফুরসন্দিতে একটাও নেই।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ফুরসন্দি ইউনিয়নের হুদা গ্রামের পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সামাজিক বিরোধের সূত্রধরে রাজনৈতিক দুটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে আমরা প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।
ঝিনাইদহ অফিস