শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা নিম্নমুখী, শীতের সাথে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

সদর হাসপাতালে শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দ্বিগুণ রোগী
  • আপলোড তারিখঃ ১৪-১১-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা নিম্নমুখী, শীতের সাথে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

চুয়াডাঙ্গায় এক সপ্তাহ যাবত দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমছে। অনেকটা আগেভাগেই শুরু হয়েছে শীতের মৌসুম। গত ৩ দিন যাবত এ জেলার তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির নিচে। এরই মাঝে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ। শীতজনিত রোগ নিয়ে বাড়ছে চিকিৎসা প্রত্যাশীদের ভীড়। আবহাওয়া অফিস বলছে, চলতি নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গায় শীতের প্রকোপ আরও বাড়বে।


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে সেবা নিয়েছেন ১৩৬৭ জন। এদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি। এর পাশাপাশি শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে। গত ৭ দিনে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩৫৭ জন শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। যাদের বেশিরভাগই ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। ২০টি বেডের তুলনায় গড়ে প্রতিদিন অর্ধশত শিশু রোগী শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি থাকছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দেখা যায়, শয্যা সংখ্যার বিপরীতে দুই-তিন গুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। জায়গার সংকট থাকলেও নার্স ও সেবিকারা চিকিৎসাসেবা অব্যহত রেখেছেন। তবে রোগীর স্বজনদের অনেকেই অতিরিক্ত ভিড় এবং চিকিৎসা সেবায় কিছুটা ধীরগতির অভিযোগ করেছেন। নার্সরা বলছেন, রোগীর চাপ বাড়ছে, কিন্তু জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।


চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাইদঘাট গ্রামের আকরাম হোসেন তার ৪ মাস বয়সী কন্যাশিশুর চিকিৎসার জন্য ভর্তি করিয়েছেন শিশু ওয়ার্ডে। তিনি সেবার মান নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও হাসপাতালে ভর্তি থেকে সেবার পরিবেশ নেই বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, এখানে নোংরা আর দুর্গন্ধ তবে নার্সরা সার্বক্ষণিক বাঁচ্চাকে দেখভাল করছে। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দুই বছর বয়সী শিশু জান্নাতুলের মা আসমা খাতুন বলেন, ‘আমার মেয়ে তিন দিন ধরে এখানে ভর্তি রয়েছে। আগের থেকে এখন সুস্থ আছে। তবে ডাক্তার বলেছে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।’


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স বাবু আক্তার বলেন, ‘২০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ৫০-৬০ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। শীতের কারণে নিউমোনিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের ভর্তি হতে হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের কাজের চাপ অনেক বেড়েছে।’ ডায়রিয়া ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স শিউলী পারভীন বলেন, ‘গত ১০ দিনে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। এই ওয়ার্ডে পাঁচজন রোগীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও গড়ে ৬০-৮০ জন রোগী ভর্তি থাকছে। আক্রান্তদের ৯০ ভাগই শিশু।’


হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, শীতের সময় শিশুরা বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাদের শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে না পারলে নিউমোনিয়া, সর্দি-কাঁশি বা রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং অনিরাপদ খাবারও ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। শীতজনিত রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে উষ্ণ পোশাক পরানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, নিরাপদ খাবার দেওয়া এবং ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে রাখা জরুরি। ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে সঠিক স্যালাইন প্রয়োগের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, নিউমোনিয়া হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রয়োজন।


ডা. মিলন আরও বলেন, এ ধরনের রোগ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শীতে ধুলা এবং ঠান্ডা বাতাস থেকে শিশুদের রক্ষা করতে হবে। প্রতিদিন শিশুদের শরীর মুছে দেওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি খাওয়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি টিকা দেওয়া থাকলে অনেক রোগ এড়ানো সম্ভব।


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বৃদ্ধির মূল কারণ আবহাওয়া পরিবর্তন। তবে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ চাহিদা জানিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে জরুরি বেশিরভাগ ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত রোগীর জন্য শয্যা সংকট থাকলেও চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে পরিবারগুলোকেও সচেতন হতে হবে। অনেক রোগ প্রতিরোধে সঠিক যত্ন ও পরিচ্ছন্নতাই যথেষ্ট।


এদিকে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযাযী, গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৫ শতাংশ। এর আগে গত বুধবার সর্বনিম্ন ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও মঙ্গলবার ১৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়।


চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে কমছে। ভোর ও সকালবেলায় কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে- এ বছর শীত আগেভাগেই নামছে। নভেম্বরের শেষ ভাগ থেকেই শীতের প্রভাব আরও বাড়বে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান