রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পঞ্চম দফা চিঠিও ব্যর্থ, ঝিনাইদহে জাল সনদধারী ১০ শিক্ষক এখনো চাকরিতে

চার মাসেও ব্যবস্থা নেয়নি স্কুল কমিটি, শিক্ষা বিভাগ নিশ্চুপ
  • আপলোড তারিখঃ ১১-১০-২০২৫ ইং
পঞ্চম দফা চিঠিও ব্যর্থ, ঝিনাইদহে জাল সনদধারী ১০ শিক্ষক এখনো চাকরিতে

প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে একের পর এক চিঠি পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু ফলাফল শূন্য। এবার পঞ্চম দফা চিঠি দিলেও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাল সনদে চাকরি করা ১০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ এ বছরের ৪ জুন মাউশির ৯৩৫ নম্বর স্মারকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্কুল কমিটিকে ৭ দিনের সময় বেঁধে দেয়। কিন্তু চার মাস পার হলেও স্কুল কমিটি ওই ১০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।


মাউশি সূত্রে জানা গেছে, জাল সনদ ধরা পড়ার পর ২০২৩ সালের ১৮ মে ১০২ নম্বর স্মারকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রথম চিঠি প্রদান করা হয়। এরপর একই বছরের ২২ জুন ১৩৭৬ নম্বর স্মারক, ১৪ নভেম্বর ২০২৩ নম্বর স্মারক ও ২০২৫ সালের ১৮ মে ২২২ নম্বর স্মারকে চার দফা চিঠি দেওয়ার পর এ বছরের ৪ জুন পঞ্চম দফা চিঠি প্রদান করা হয়।


সূত্রমতে, ঝিনাইদহ জেলায় ১০ শিক্ষকসহ সারা দেশে ৬৭৮ জন জাল সনদে চাকরির বিষয়টি ধরা পড়ার পর তাদের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। এরপর আদালতে রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার আমেনা খাতুন বিদ্যাপিঠ স্কুলের সহকারী শিক্ষক সোলায়মানসহ ২৭ জন শিক্ষক তাদের বেতন-ভাতা চালুর জন্য রিট পিটিশন করেন।


গত ৪ জুন মাউশি’র ওই চিঠিতে বলা হয়, সারা দেশে প্রমাণিত ৬৭৮ জন জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণের কী নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা অত্র চিঠি প্রাপ্তির ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে বলা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং স্কুল কমিটির সভাপতিদের যোগসাজশে এ সকল শিক্ষক এখনো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও স্কুলের সভাপতিরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।


চিঠিতে জাল সনদধারী শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৩ টাকা আদায়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তাও জানাতে বলা হয়। কিন্তু ঝিনাইদহ শিক্ষা বিভাগে এ বিষয়ে একেবারেই নিশ্চুপ রয়েছে বলে অভিযোগ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অভিযুক্ত ঝিনাইদহের ১০ শিক্ষক-কর্মচারীরা বছরের পর বছর অবৈধভাবে বেতন-ভাতা নিয়েছেন। কিন্তু এই অর্থ এখনো সরকারি কোষাগাজেমা দেওয়া হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এইসব জাল সনদধারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতি, অর্থ ফেরত, অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট বাতিল, ফৌজদারি মামলা এবং নিয়োগে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।


এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. লুৎফর রহমান বলেন, এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিটপিটিশন ৭০৮০/২৩ চলামান। মামলার পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালক প্রফেসর এবিএম রেজাউল করীম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ১১টি বিষয়ের ওপর ধারাবাহিক প্রতিবেদন চেয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর ১৬৮৪ নম্বর স্মারকে একটি চিঠি দিয়েছেন। এই নির্দেশনামতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে প্রতিবেদন প্রস্তুতে সহয়াতা করার জন্য কাগজপত্র চেয়ে পাঠানো হয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত