রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল

১৫২ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী
  • আপলোড তারিখঃ ২৮-০৯-২০২৫ ইং
ঝিনাইদহে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ: 
অতিবৃষ্টির চাপ আর অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে ঝিনাইদহসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে বেহাল দশায় পৌঁছেছে। জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলার সড়কেই এখন খানাখন্দ আর ভাঙাচোরা অংশ। ফলে যান চলাচল কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পরিবহন মালিকরা। নিয়মিত চলাচলকারী যানবাহন রাস্তায় পড়ে থাকছে বিকল হয়ে।


তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে প্রায় ১৫২ কিলোমিটার সড়ক এখন চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী। এর মধ্যে ২৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে সড়ক বিভাগের আওতায়, আর ১২৭ কিলোমিটার সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীন। এই ভাঙাচোরা সড়কে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক লাখ মানুষ।


জানা গেছে, ঝিনাইদহে এলজিইডির আওতায় মোট ৩ হাজার ২৯৪ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ও ৬ হাজার ৩৮৭ কিলোমিটার পাকা রাস্তা রয়েছে। সড়ক বিভাগের অধীন ৪০৬ কিলোমিটার সড়কের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের মুখ দেখেনি। টানা বর্ষণে এসব সড়কে সৃষ্টি হয়েছে গর্ত ও ধস।


এলজিইডির আওতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো হলোর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩০ কিলোমিটার, হরিণাকুণ্ডুতে ১৮ কিলোমিটার, কালীগঞ্জে ১২ কিলোমিটার, কোটচাঁদপুরে ১২ কিলোমিটার, মহেশপুরে ২০ কিলোমিটার ও শৈলকুপায় ৩৫ কিলোমিটার।


অন্যদিকে, সড়ক বিভাগের আওতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে রযেছে ঝিনাইদহ-মাগুরা সড়ক, হাটগোপালপুর, ডাকবাংলা বাজার, আরাপপুর ইন্টারসেকশন থেকে আলহেরা পর্যন্ত অংশ চলাচলের অনুপযোগী। এছাড়া ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়ক, ভাটই, শেখপাড়া, গাড়াগঞ্জ, আমেরচারা-তেলটুপি পর্যন্ত রাস্তা সম্পূর্ণ ভাঙাচোরা। ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়েই করছেন চলাচল। শৈলকুপা উপজেলার সড়কগুলোও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রতিদিন ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।


ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সময় নিয়ন্ত্রক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কগুলোর এই দুরবস্থা হয়েছে। বর্ষায় অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়েছে। ইট উঠে গিয়ে সড়ক এখন কাদা-পানিতে ডুবে গেছে। ঢাকাগামী গাড়ি বন্ধ, সবচেয়ে বেশি কষ্ট রোগী ও শিক্ষার্থীদের।’ 


যাত্রীসেবা কমিটির নেতা সাব্বির আহমদ জুয়েল বলেন, ‘সংস্কারের উদ্যোগ দ্রুত না নিলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসাÑসব খাতই স্থবির হয়ে পড়বে।’ 


ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মেরামতের জন্য অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ নেই। প্রতি বছর যে বরাদ্দ আসে, এবারও তাই এসেছে। বৃষ্টি কমলে কিছু কাজ শুরু করব।’


এদিকে সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখনো কোনো আর্থিক বরাদ্দ পাইনি। আগের বরাদ্দ দিয়েই ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের চেষ্টা করছি।’  



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত