রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

শৈলকূপায় স্কুলের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহকালে হুমকি

আ.লীগ নেতার হাতে তিন সাংবাদিক লাঞ্ছিত
  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৯-২০২৫ ইং
শৈলকূপায় স্কুলের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহকালে হুমকি

স্কুলের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় লাঞ্ছিত হয়েছেন তিন সাংবাদিক। এসময় ওই তিন সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে শাসিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বামী এনায়েত হোসেন। এনায়েত হোসেন শৈলকূপা পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহারের স্বামী। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস প্রাঙ্গনে এ ঘটনা ঘটে।
লাঞ্ছিত সাংবাদিকরা হলেন, বাংলাদেশ পোস্টের রোভিং করেসপন্ডেন্ট দেলোয়ার কবীর, বাংলাদেশের খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এম. বুরহান উদ্দীন ও ভোরের আকাশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সুজন বিপ্লব। ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীরা জানান, শৈলকূপা ১৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরিচ্ছন্নতার কাজ বাবদ টাকা আদায় করার খবর পেয়ে তারা বিদ্যালয়ে যান। তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার ও সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ থেকে বের হচ্ছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বামী ও আওয়ামী লীগ নেতা এনায়েত হোসেন।


তিনি ওই তিন সংবাদিককে প্রশ্ন করেন কেন বিদ্যালয়ে এসে তথ্য নিচ্ছেন এবং প্রথমে গালিগালাজ ও পরে মারতে উদ্যত হন। সাংবাদিকরা পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে চাইলে আবারও হুমকি দিয়ে তাদের গতিরোধ করেন। তথ্য অনুযায়ী, শৈলকূপা পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি থাকাকালীন এনায়েত হোসেন টেন্ডারবাজি, দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বহু মানুষকে হয়রানি করেছেন।


জেলার সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার কবীর বলেন, সংবাদ সংগ্রহ শেষে অফিসকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ আওয়ামী লীগ নেতা এনায়েত হোসেন এসে আমাদের ওপর চড়াও হন। তিনি হুমকি দিয়ে আমাদের জবাব চেয়েছেন। বাড়াবাড়ি করলে ‘দেখে নেয়া হবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন।


বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিপুল চক্রবর্তী জানান, তিন সাংবাদিক তথ্য নিয়ে বেরোচ্ছিলেন। তখন প্রধান শিক্ষকের স্বামী এসে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এ বিষয়ে এনায়েত হোসেনের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার স্ত্রী নুরুন্নাহার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিন সাংবাদিক তথ্য নিয়ে বেরোচ্ছিলেন। তখন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। হয়তো তার স্বামীর সম্পর্কের খাতিরে এমন ব্যবহার হয়েছে।


শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্নিগ্ধা দাস বলেন, সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা ও লাঞ্ছিতের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে।
এদিকে সাংবাদিকদের কাজে বাধা ও লাঞ্ছিতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ কাজল ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, এনায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা না হলে অবাধ তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত