রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মহেশপুরে সিজারে রোগীর মূত্রথলি ও ভুঁড়ি কেটে ফেলার অভিযোগ

মুমূর্ষু প্রসূতি আইসিইউতে, ক্লিনিক মালিক গা-ঢাকা
  • আপলোড তারিখঃ ২৬-০৯-২০২৫ ইং
মহেশপুরে সিজারে রোগীর মূত্রথলি ও ভুঁড়ি কেটে ফেলার অভিযোগ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের এক রোগীর মূত্রথলি ও ভুঁড়ি কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মহেশপুর উপজেলার ঘুঘরি বাজারে আল আরাফাহ নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। ভুক্তভোগী নারী মুমুর্ষ অবস্থায় যশোরের জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিক গা-ঢাকা দিয়েছেন।


ভুক্তভোগী রোগীর নাম স্বপ্না খাতুন (২৫)। তিনি মহেশপুরের রঘুনাথপুর গ্রামের সোহেল রানার স্ত্রী। গত ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঘুঘরি বাজারের আল আরাফাহ নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারের জন্য ভর্তি হন। রোগীর ভাই মনসুর হোসেন মিয়াজি জানান, স্বপ্না খাতুনকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হলে ঘটনার রাতে অপারেশন করা হয়। অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম নিয়েছে, কিন্তু রোগীর মূত্রথলি কেটে ফেলা হয়। এছাড়া ভুঁড়িতে বেশ কয়েকটি ছিদ্র করা হয়, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং রক্ত ও প্রস্রাব পেটের ভেতরে জমতে থাকে। রোগীর অবস্থা জটিল হওয়ায় ক্লিনিক মালিক তাকে যশোর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে স্বপ্না খাতুন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


ঘুঘরি বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কাজল মেম্বার। তিনি প্রভাব খাটিয়ে মানুষকে চিকিৎসার নামে হয়রানি ও জীবন নিয়ে অবহেলা করে আসছেন। আল আরাফাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এর আগেও ভুল চিকিৎসায় বহু মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।


ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক কাজল ভুইয়া বলেন, দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। আমরা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। রোগী আমার প্রতিবেশী, এ নিয়ে সাংবাদিকদের মাথা ঘামানোর কিছু নেই। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন ও সিজারিয়ান অপারেশন করা চিকিৎসকের পরিচয় সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, অনুমোদন আছে। চিকিৎসকের নাম সোহেল রানা। তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলা হাসপাতালের ডাক্তার। তবে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জানা গেছে, সেখানে সোহেল রানা নামে কোনো চিকিৎসক নেই।


ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ ধরণের ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক। ঘটনাস্থলে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে ওই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত