ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ধুর (মানব পাচার) নিয়ে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে দালালদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এসময় আল-আমিন নামে এক দালাল প্রকাশ্যে পিস্তল ধরে প্রতিপক্ষ ইসমাইল হোসেনকে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত বুধবার সকালে মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের হালদারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় দালাল ইসমাইল কয়েকজন নারী ধুর পাচারের জন্য ২০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু টাকার ভাগ না দেওয়ায় আল-আমিনের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায় আল-আমিন পিস্তল বের করে ইসমাইলের মাথায় ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেন। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রটি কেড়ে নিয়ে গ্রামের বিল্লাল খলিফার কাছে জমা দেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মহেশপুর-৫৮ বিজিবির সদস্যরা বাঘাডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালান। জেসিও সুবেদার আতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে খড়েরগাদা থেকে পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে আল-আমিনসহ ধুর পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যরা পালিয়ে যায়। সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল মেম্বারের সহযোগিতায় বাঘাডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত সোনা, ধুর, মাদক ও অস্ত্র পাচার হয়ে থাকে। তবে এসব বিষয়ে বিজিবির তৎপরতা প্রশ্নবিদ্ধ বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান জানান, ‘উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।’ মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিজিবি হস্তান্তরকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঝিনাইদহ অফিস