ঝিনাইদহের হরিনাকুণ্ডে শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক হাজী বিশারত আলী জোয়ার্দারের কুলখানি, শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে হাজারো মানুষের ঢল নামে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হরিনাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাজী বিশারত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় বিশাল কুলখানির, যেখানে হাজার হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
শোকসভায় বক্তারা আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করেন মরহুমের জীবন ও কর্মের নানা দিক। তাঁরা বলেন, হাজী বিশারত আলী জোয়ার্দার ছিলেন বিরল ব্যক্তিত্ব—শুধু একজন মানুষ নন, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। আধুনিক ও উন্নত শিক্ষার প্রসারে নিজস্ব জমি দান করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এ বিদ্যালয়। তাঁর উদারতা ও দূরদর্শিতা প্রজন্মের পর প্রজন্ম স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শোকসভা ও কুলখানিতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিচালনা পর্ষদ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সবাই মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
স্থানীয়দের মতে, বিশারত আলী জোয়ার্দার ছিলেন সবার কাছে অভিভাবকের মতো। অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে সবসময় দাঁড়াতেন তিনি। তাঁর প্রজ্ঞা, সততা ও মানবসেবার আদর্শ সবার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এ প্রয়াণ শুধু হরিনাকুণ্ড নয়, পুরো ঝিনাইদহ জেলার জন্যই এক অপূরণীয় ক্ষতি।
শেষে মোনাজাতে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর রেখে যাওয়া মানবসেবার আদর্শকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। জনসমাগমমুখর এই কুলখানি ও শোকসভা প্রমাণ করেছে—হাজী বিশারত আলী জোয়ার্দার তাঁর কর্ম ও ভালোবাসায় মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।
প্রতিবেদক, হরিণাকুণ্ডু: