ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালে অবৈধভাবে মাছ চাষের কারণে খাল পাড়ের রাস্তা ভেঙে গেছে। এতে মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, পারাপারের একমাত্র ব্রিজটি সচল থাকলেও রাস্তা না থাকায় ব্রিজটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে খালের দুই পাড়ের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ভাংগা রাস্তা হয়ে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।
জানা যায়, এলাকার মানুষের উন্নত যোগাযোগের কথা চিন্তা করে প্রায় ২০ বছর পূর্বে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ই/১ পানি নিষ্কাশন খালের উপর আদর্শ আন্দুলিয়া গ্রামের উত্তর পাড়ায় এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। খালের এক পাড়ে প্রায় ৪০০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১৬ ফুট প্রশস্ত রাস্তা ছিল। কিন্তু তাহেরহুদা ইউনিয়নের আদর্শ আন্দুলিয়া ও গাজীপুর গ্রামের অংশে পার্শ্ববর্তী ফলসী ইউনিয়নের এক শ্রেণির প্রভাবশালী লোকজন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় জেলা পরিষদের কিছু অসাধু কর্মচারীদের সাথে যোগসাজশে দীর্ঘ দিন ধরে এ খালে মাছ চাষ করে আসছে।
মাছ চাষের কারণে খালের পানি কানায় কানায় পূর্ণ থাকায় পানির ঢেউ লেগে খালের পাড়ের রাস্তা ভেঙে খালে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
এলাকাবাসী বারবার জেলা পরিষদকে এ সমস্যার কথা জানালেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানা গেছে। অথচ এ রাস্তায় প্রতিদিন উপজেলার বলরামপুর, কুলবাড়িয়া,গাজীপুর, তাহেরহুদা এবং আদর্শ আন্দুলিয়া গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ তাদের কৃষি পণ্য পারাপার করে থাকেন। আগে এ রাস্তায় যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে পায়ে হেঁটেও মানুষ যাতায়াত করতে পারছে না। এতে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে। এলাকাবাসী অতিসত্বর এ খালে মাছ চাষ বন্ধ করে রাস্তাটি পুনঃনির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন।
ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্প্রসারণ অফিসার বাদশা আলমগীর জানান, জরুরি মুহূর্তে মেইন সেচ খাল থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড খালটি ব্যবহার করে থাকে। এ খালটি নিরঙ্কুশ ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হলেও জেলা পরিষদ কীভাবে এ খাল ইজারা দেয়, তা তাদের বোধগম্য নয়।
ঝিনাইদহ অফিস