ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে আটক করা ৯ বাংলাদেশি নাগরিককে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশর (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়। আটকদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছে। গতকাল রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে মহেশপুর-৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমানের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার মাহেন্দ্রা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা অবৈধভাবে ভারতে বসবাসরত ৫ বাংলাদেশিকে আটক করে। তাঁদের মধ্যে আছেন ২ পুরুষ, ২ নারী ও এক শিশু। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্ত পিলার ৬১/১-এস এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির শ্রীনাথপুর বিওপির হাতে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, গতকাল রোববার বেলা দেড়টার দিকে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জোড়পাড়া বিএসএফ ক্যাম্প আরও ৪ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে। আটকদের মধ্যে ২ জন নারী ও একজন শিশু। পরে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে সীমান্ত পিলার ৬০/৩১-আর এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাঘাডাঙ্গা বিওপির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। মহেশপুর-৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান জানান, আটকদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
মহেশপুর থানার ওসি (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আটক নারী ও শিশুদের যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হবে। আটক পুরুষদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, জীবননগর সীমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ফেনসিডিল, ভায়াগ্রা ট্যাবলেট এবং ইনজেকশন উদ্ধার করেছে বিজিবি। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জানা গেছে, গতকাল রোববার ভোরে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধীনস্থ উথলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত ৭১/২-এস হতে প্রায় ২.৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্তোষপুর গ্রামের মেহগনি বাগানে হাবিলদার মো. মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় আসামীবিহীন ৬ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল ও ৬০০ পিস ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অপর দিকে, গত শনিবার রাতে নতুনপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৬৬/৩-এস হতে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নতুনপাড়া গ্রামের জামে মসজিদের সামনে পাকা রাস্তা থেকে হাবিলদার মো. আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় আসামীবিহীন ভারতীয় ইনজেকশন ১০০ পিস এবং গওজঅঈখট ডঐওঞঊ ঊঘঐঅঘঈঊ ২৫ বক্স উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইনজেকশনের আনুমানিক সিজার মূল্য ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
সমীকরণ প্রতিবেদক