রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আন্দুলবাড়ীয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সচেতনতামূলক সভায় ডিসি জহিরুল ইসলাম

পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিকতার শিক্ষা দেয়া খুবই জরুরি
  • আপলোড তারিখঃ ২২-০৮-২০২৫ ইং
আন্দুলবাড়ীয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সচেতনতামূলক সভায় ডিসি জহিরুল ইসলাম

জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে দুই ঘণ্টব্যাপী ব্যস্ত সময় পার করেছেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত তিনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে এক সচেতনতামূলক সভা, কৃষক ও প্রান্তিক চাষীসহ সর্বস্তরের মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন। 


এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আন্দুলবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ও উত্তম চর্চা সম্পর্কে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে এক সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। আন্দুলবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ সভায় জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল-আমীন সভাপতিত্ব করেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে জাতির ভিত্তি। একটি মজবুত ভিত্তি ছাড়া যেমন ভবন স্থায়ীভাবে দাঁড়াতে পারে না, তেমনি মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই আজকের এই সভার মূল উদ্দেশ্য হলো- শিক্ষক ও অভিভাবক মিলে শিশুদের জন্য উত্তম চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করা।’


তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দিলেই চলবে না, তাদের মধ্যে সৎ চরিত্র, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতা জাগ্রত করতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে সমানভাবে। শিশুদের সময়মতো স্কুলে পাঠানো, বাড়িতে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া খুবই জরুরি।’


জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা চাই চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি স্কুল মানসম্পন্ন শিক্ষায় সমৃদ্ধ হোক, প্রতিটি শিশু নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকুক এবং আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশে বেড়ে উঠুক। এ জন্য সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে- ডিজিটাল লার্নিং, উপবৃত্তি কর্মসূচি, মিড-ডে মিল ইত্যাদি। এসব উদ্যোগের সর্বোচ্চ সাফল্য নির্ভর করছে আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতার ওপর। আমি বিশ্বাস করি- শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে চুয়াডাঙ্গা একটি রোল মডেল জেলায় পরিণত হবে।’


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আন্দুলবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এম আসলাম পারভেজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দজাদী মাহবুবা মঞ্জুর মৌনা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল-নাঈম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজুল আলম ও আকমল হোসেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন সহকারী শিক্ষক শিরীন সুলতানা লিসা।


এরপর ডিসি আন্দুলবাড়ীয়ার বৃহত্তর খাল সংলগ্ন নাবাল মাঠে কৃষক ও প্রান্তিক চাষীদের মাঠে উৎপাদিত মাল্টা বাগানসহ বিভিন্ন উঠতি ফসলের খেত পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার পরিদর্শন করেন। এছাড়া আন্দুলবাড়ীয়া সাপ্তাহিক হাটবাজার পরিদর্শন এবং সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি। তিনি মনোহরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করে প্রকল্পভুক্ত পরিবারের জীবনমান, আবাসনব্যবস্থা ও সরকারি সহায়তার বাস্তবায়ন অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।


পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক জীবননগর বাজারে জীবননগর পৌরসভা ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সেবার মান ও বিভিন্ন সুবিধা বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তিনি জীবননগর পৌরসভার উদ্যোগে নির্মিত মাছ, মাংস ও মুরগি শেডের উদ্বোধন করেন।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত