মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার ধানখোলা সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পথচারীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাংনী-ধানখোলা সড়কের বিল্লাল নার্সারির সামনে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের বরাতে জানা যায়, ৭-৮ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র হাতে রাস্তা অবরোধ করে প্রথমে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। মুহূর্তেই আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তারা অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন পথচারীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ লুট করে নেয়। ডাকাতি চলাকালে পুরো এলাকা প্রায় ১০ মিনিট অচল হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন- ইয়াসির আরাফাত (৭ হাজার টাকা), আব্দুল হালিম (৬০০ টাকা), শাহজামাল (৫ হাজার টাকা), রেজিয়া খাতুন (৭০০ টাকা), মিণ্টু (২৫০০ টাকা), মহব্বত আলী (২২০০ টাকা), মিণ্টু (৯ হাজার ৭০০ টাকা), কুরসিয়া খাতুন (২৫০০ টাকা) প্রমুখ। তাদের অধিকাংশই গাংনীর ধানখোলা, মহিষাখোলা ও আড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতদল প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
ঘটনার পরপরই গাংনী থানা-পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন- গাংনী পৌর ৯ নম্বর ওয়াডের্র মাঠপাড়ার কালাম আলীর ছেলে কামরুজ্জামান শিহাব ওরফে কাবীরুল (২৮), মাসুদ হোসেনের ছেলে শাকিব (২৫) ও একই এলাকার মোকাদ্দেসের ছেলে মুরসালিন (৩৩) এবং মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুরের আজাদ আলীর ছেলে মিকাইল (১৯) ও একই গ্রামের উসমান আলী মীরের ছেলে জাহিদ হোসেন (২১)।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে সংঘবদ্ধ ডাকাতি চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় মহিষাখোলা গ্রামের শাহাজামাল বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর-৩, তারিখ: ০৬/০৮/২০২৫)। গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, রাতের সড়কে এমন ভয়াবহ ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ রাতের চলাচলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এলাকাবাসী দ্রুত পুলিশি টহল জোরদার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদক গাংনী