রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ভারতে পলাতক কার্তিককে শাস্তির পরিবর্তে বদলি!

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০৮-২০২৫ ইং
ভারতে পলাতক কার্তিককে শাস্তির পরিবর্তে বদলি!

ঝিনাইদহে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন ও ইসলাম ধর্ম কটূক্তির দায়ে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) ডেন্টাল ইন্সট্রাক্টর কার্ত্তিক গোপাল বিশ্বাসকে বরখাস্ত না করে তাকে বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।


এদিকে ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ বলছে, কার্ত্তিক গোপালের অপকর্মের তথ্য, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রমাণাদি ও তদন্ত রিপোর্টের সবিস্তার মহাখালীর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হলেও তারা কেন এমন নজিরবিহীন বদলির আদেশ দিণ তা রহস্যজনক।


অভিযোগ উঠেছে মহাখালীর স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসররা এখনো গ্রুরুত্বপুর্ন পদে বহাল থাকায় ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে অভিযুক্ত কার্ত্তিক গোপালকে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে ঝিনাইদহ থেকে তাকে শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ,বি,এম আবু হানিফ সাক্ষরিত ২৮ জুলাই ৬০৩৬ নং স্মারকের এক আদেশে উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বদলি কমিটির সুপারিশে নিম্নবর্ণিত ১৪ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়। আদেশ জারির ৭ দিনের মধ্যে বদলিকৃত কর্মচারীদের ছাড়পত্র গ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে।


এদিকে ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ভারতে পালিয়ে যান কার্ত্তিক গোপাল বিশ্বাস। প্রায় এক বছর তিনি কর্মক্ষেত্রে না থাকলেও তার চাকরি ঠিকই বহাল রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, বরং বদলির মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম বিদ্বেষী কার্ত্তিককে রক্ষার চেষ্টা করা হলো।


ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির ছাত্র নাইমুল হাসান মারুফ জানান, তিনি কার্ত্তিক গোপালের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন ও ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা করেন, যার নং ৮০৯/২৪। মামলাটি আমলে বিজ্ঞ বিচারক ফারুক আযম ঝিনাইদহ ডিবিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।


ঝিনাইদহ ডিবির কর্মকর্তা এসআই খালিদ হাসান তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পান এবং কার্ত্তিক গোপালের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পান। এরপর আদালত কার্ত্তিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে তার বদলির আদেশ শিক্ষার্থীদের আহত করেছে বলে মারুফ উল্লেখ করেন।


এ বিষয়ে ঝিনাইদহ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির উপাধ্যাক্ষ ডা. জামিনুর রশিদ জানান, মামলা ও তার পলাতক থাকার বিষয়টি ঢাকার স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বদলি করা হলে তা একমাত্র অধিদপ্তরই ভালো জানে



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত