চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে লাখো কণ্ঠে শপথ পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে পৃথক পৃথক ভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এর মধ্যে গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে ‘জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে শপথ গ্রহণ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই আয়োজন শুরু হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশীদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুরা জান্নাত, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জুলাই শহিদ শাহরিয়ার শুভর পিতা আবু সাঈদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্ক, জুলাইযোদ্ধা মাহফুজ হোসেন, তামান্না খাতুন, হাসনা জাহান খুশবু এবং সমাজকর্মী সেলিমুল হাবীব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস. মুরশিদ। তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে এক মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান জানান শহিদদের স্মরণে এবং লাখো কণ্ঠে শপথ বাক্য পাঠ করান। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, গীতপাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উঠে আসে বৈষম্যবিরোধী সংগ্রামের তাৎপর্য, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রত্যয়।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ৩৬ দিনের হলেও তার চেতনা গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। প্রত্যেককে নিজ অবস্থান থেকে সমাজ গঠনে অংশ নিতে হবে। স্বাধীনতা অর্জন করেছি, এখন তা রক্ষা করতে হবে। ‘জুলাই স্পিরিট’ ধারণ করে আমাদের চলতে হবে।’ তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিহত শিক্ষার্থীদের শহিদি মর্যাদা ও তাদের জন্য জান্নাত কামনা করেন।
আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, জুলাইযোদ্ধা মাহফুজ হোসেন, সমাজকর্মী তামান্না খাতুন, জাসাস সেক্রেটারি সেলিমুল হাবীবসহ বিভিন্ন অংশগ্রহণকারী। বক্তারা নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সমতার ভিত্তিতে সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠান শেষে ডিসি সাহিত্য মঞ্চে পরিবেশিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত ও আবৃত্তির মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমাজ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। জুলাই পুনর্জাগরণ এখন কেবল স্মৃতিচারণ নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে একটি সামাজিক চেতনার প্রতীক, যেখানে নেতৃত্বে রয়েছে ত্যাগী তরুণ প্রজন্ম, আর পথপ্রদর্শক শহিদদের আত্মবলিদান।
এদিকে, আলমডাঙ্গায় জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে লাখো কণ্ঠে শপথ পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জেলা মহিলা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এরমধ্যে প্রথম পর্বে ভিডিও কনফারেন্সে জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে লাখো কণ্ঠে শপথ পাঠের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে সংযুক্ত থাকা এবং দ্বিতীয় পর্বে সমাজ গঠনে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সংগীত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, ওসি (তদন্ত) আজগর আলী, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ অফিসার এ এন এম মুস্তাকিম মুকুট, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক, প্রোগ্রাম অফিসার হিরোজ কবির। আলোচনা শেষে শপথ বাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশীষ কুমার বসু।
অন্যদিকে, জীবননগরে ভার্চুয়ালি জুলাই মাসে "পূর্ণ জাগরণের সমাজ গঠনে লাখো কণ্ঠে শপথ পাঠ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকল ১০ টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ শপথ পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জীবননগর উপজেলা সমাজসেবার আয়োজনে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জাকির উদ্দিন মোড়লের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অফিসার সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হাসান, একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুল জব্বার, পল্লী উন্নয়ন অফিসার জামিল আক্তার, সহকারী সমাজসেবা অফিসার গিয়াস উদ্দিন, আইসিটি অফিসার মাহাবুবুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সোহেল পারভেজ প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে সমাজসেবা অফিসের পক্ষ হতে প্রতিবন্ধী এক শিশুকে হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়।
অপরদিকে, মেহেরপুরে জুলাই পুনর্জাগরণে সমাজ গঠনে শপথ পাঠ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে গতকাল সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে এই শপথ পাঠ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা শারমিন এস. মুর্শিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা অফিসার আশাদুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসিমা খাতুন, জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এ. জে. এম. সিরাজুম মুনীর, জেলা শিক্ষা অফিসার হজরত আলী, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি খন্দকার মুইজ ও রাব্বি হাসনাত, এবং আরও অনেক সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সমাজসেবা অফিসার (রেজি) কাজী আবুল মনসুর।
সমীকরণ প্রতিবেদন