রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি
যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তে নিহত চুয়াডাঙ্গার মেয়ে তাসনিমের দাফন সম্পন্ন

শোকে স্তব্ধ জয়পুর গ্রাম, জানাজায় মানুষের ঢল

  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৭-২০২৫ ইং
শোকে স্তব্ধ জয়পুর গ্রাম, জানাজায় মানুষের ঢল

সোহাগ মণ্ডল, মুজিবনগর:
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে গুরুতর দগ্ধ হয় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মাহিয়া তাসনিম মায়া (১৫)। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ পৌঁছায় মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে নানা নজরুল ইসলামের বাড়িতে। সেখানে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ‘বাবা নেই, এখন তাসনিমও নেই’- গ্রামের মানুষের আহাজারিতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।


মাহিয়া তাসনিম চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের বাড়ারপাড়া গ্রামের মৃত প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের মেয়ে। তার মা আফরোজা খাতুন বিউটি তিন মেয়েকে নিয়ে ঢাকার উত্তরার ৮ নম্বর সেক্টরের নিজ ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল তাসনিম।


এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকার বার্ন ইউনিট থেকে মরদেহ নিয়ে রওনা হন স্বজনরা। প্রথমে নেয়া হয় চুয়াডাঙ্গার কোর্টপাড়ায় দাদার বাড়িতে। কিছু সময় অবস্থানের পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মুজিবনগরের জয়পুর গ্রামে নানা বাড়িতে। নানা নজরুল ইসলামের বাড়ির সামনে বিশাল এক পাকুড়গাছের নিচে লাশবাহী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে রাখা হয় তাসনিমের মরদেহ। ভিড় করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।



ফুফাতো ভাই মাহাদি তাসিম, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষার্থী বলেন, ‘তাসনিম খুব মেধাবী ছিল। বাবার মৃত্যুর পর সেই ছিল মায়ের ভরসা।’ ফুফু রোকেয়া খাতুন জানান, যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর প্রথমে তাসনিম নিজেই ফোন করে দেয় তাকে। পরে স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন তাসনিমকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। নানা নজরুল ইসলাম কাঁপা কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়ে আফরোজা স্বামীর মৃত্যুর পর দুই মেয়েকে নিয়ে জীবন চালাচ্ছিল। এখন বড় মেয়েটিও চলে গেল। এই শোক কিভাবে সইবে?’


সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জয়পুর গ্রামের কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয় মাহিয়া তাসনিমের। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ মর্মান্তিক ঘটনায় শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে শোকের ছায়া নেমেছে।’ স্বপ্নের ডানায় ভর করে এগিয়ে চলা ছোট্ট মেয়েটি থেমে গেল এক যন্ত্রণাময় ট্র্যাজেডিতে। এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবি, যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসন যেন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত