রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

স্ত্রীর শরীরে ফুটন্ত ভাত ঢাললেন স্বামী!

গুরুতর দগ্ধ গৃহবধূ চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি
  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০৭-২০২৫ ইং
স্ত্রীর শরীরে ফুটন্ত ভাত ঢাললেন স্বামী!

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার হালসা ইউনিয়নের নাগরবাকা গ্রামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দুই লাখ টাকা যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী সুলতানা পারভীনের শরীরে রান্নার হাঁড়ির ফুটন্ত ভাত ঢেলে দেন স্বামী রবিউল বিশ্বাস ও তার মা। এতে গৃহবধূর শরীরের পিঠের অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। বর্তমানে তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত সোমবার এ ঘটনা ঘটলেও চিকিৎসা না দিয়ে তাকে বাড়িতে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে গতকাল সকালে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে সুলতানার মা ও ভাই। 


ভুক্তভোগী সুলতানার বড়ভাই সোহেল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বোনাই রবিউল ও তার মা মিলে আমার বোনের শরীরে গরম ভাত ঢেলে দেয়। ওরা আমাদের পরিবারের ওপর আগেও টাকার জন্য চাপ দিয়েছে। এবার বলেছে রবিউলের ভাই বিদেশ যাবে, এ জন্য দুই লাখ টাকা দরকার। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা দিতে না পারায় আমার বোনকে অমানুষিক নির্যাতন করেছে।’


তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর ওরা স্থানীয় এক ফার্মেসি থেকে নামমাত্র ওষুধ খাইয়েছে, পরে কুষ্টিয়া নেওয়ার কথা বলে সুলতানাকে নিয়ে যায় তাদের নানীর বাড়ি। সেখান থেকে বিকেলে হালসার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে ওর পরিবার, কিন্তু ভর্তি করেই ওরা পালিয়ে যায়। পরে আমরা স্থানীয়দের সহায়তায় বোনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি।’
সুলতানার বড়বোন আফরোজা খাতুন বলেন, ‘রবিউল সারাদিন ঘরে বসে নেশা করে। বোন কিছু বললে মারধর করে। এমনকি বোনের গর্ভে তিন মাসের সন্তান থাকতেও ওকে ফেলে রেখে ঢাকায় চলে যায়। এখন তার ভাই বিদেশ যাবে বলে আমার বোনের কাছে দুই লাখ টাকা চায়। আমরা দিতে না পারায় এই নির্যাতন করেছে।’


যন্ত্রণায় কাতর ভুক্তভোগী সুলতানা পারভীন বলেন, ‘আমার বাড়িওয়ালা (স্বামী) ও শাশুড়ি মিলে আমার গায়ে গরম ভাত ঢেলে দিয়েছে। আমি টাকা দিতে পারবো না বলতেই গালাগাল করে, পরে মারধর করে। এর আগেও সে আমার নাক কেটে দিয়েছে, হাত ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমাকে তালাক দিতে বলেছে বারবার। আমি বলি আমি সংসার করতে এসেছি, তালাক কেন দেবো? এ কথা বলতেই রান্না হওয়া ফুটন্ত ভাত আমার গায়ে ঢেলে দেয়।’


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাপলা খাতুন বলেন, ‘সুলতানাকে দগ্ধ অবস্থায় জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। আগেও তাকে অন্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বললেও কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। রোগীর ভায়টালস বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গায় সুজনের জেলা কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত